যশোর, বাংলাদেশ || সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

কালীগঞ্জে শিশু ধর্ষণ ও হত্যার আসামির মৃত্যুদণ্ড

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

প্রকাশ : সোমবার, ২২ জুন,২০২৬, ০১:২৮ পিএম
আপডেট : সোমবার, ২২ জুন,২০২৬, ০২:২৩ পিএম
কালীগঞ্জে শিশু ধর্ষণ ও হত্যার আসামির মৃত্যুদণ্ড

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে পাঁচ বছর বয়সী শিশু তাবাচ্ছুম আক্তার তোয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলার আসামি আবু তাহেরকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে আসামিকে পাঁচ লাখ ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২২ জুন) দুপুরে ঝিনাইদহ শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ পদমর্যাদা) সালেহ উজ্জামান এই আলোচিত মামলার রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আবু তাহের (৩২) কালীগঞ্জ উপজেলার ফারাসপুর গ্রামের শফি উদ্দীনের ছেলে। রায় ঘোষণার পর আসামিকে কড়া নিরাপত্তায় জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে এই রায়কে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই আদালত এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।

মামলার বিবরণে জানা যায়, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি দুপুরে উপজেলার বাদেডিহি গ্রামে বাবা নজরুল ইসলাম ও মা হালিমা খাতুন চাকরিগত কারণে কর্মস্থলে ছিলেন। তখন শিশু তাবাচ্ছুম খেলতে খেলতে আবু তাহেরদের পরিত্যক্ত বাড়ির সামনে যায়। সে সময় তাহের বারান্দায় শিশুটিকে খেলতে দেখে চিপস ও জুস কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ঘরে ডেকে নেয়। সেখানে তাকে ধর্ষণের পর নিজের ব্যবহৃত কাপড় দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।

ঘটনা ধামাচাপা দিতে ওই রাতেই শিশুটির মরদেহ একটি বস্তায় ভরে পাশের আব্দুল জব্বার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে ফেলে দেওয়া হয়। পরদিন অনেক খোঁজাখুঁজির পর পুলিশ তাবাচ্ছুমের মরদেহ উদ্ধার করে। ওই দিনই তার বাবা বাদী হয়ে কালীগঞ্জ থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন।

এরপর পুলিশ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আবু তাহেরকে শনাক্ত করে এবং ওই রাতেই কুষ্টিয়া শহরের একটি বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দী দেন। এরপর গত ২২ মে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। মামলায় ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও শুনানি শেষে গত রোববার যুক্তিতর্ক শেষ হয় এবং আজ সোমবার আদালত আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন।

রায় ঘোষণার পর শিশু তাবাচ্ছুমের বাবা নজরুল ইসলাম ও মা হালিমা খাতুন বলেন, ‘এই রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। তবে অধিকাংশ সময় আমরা দেখি রায় হলেও তা কার্যকর হতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। সরকারের কাছে আমাদের দাবি, যেন দ্রুততম সময়ের মধ্যে আমার সন্তান হত্যার এই রায়টি কার্যকর করা হয়। এমন দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হোক যেন আর কোনো কন্যাশিশুকে এমন নৃশংসতার শিকার হতে না হয় এবং কোনো বাবার কাঁধে যেন নিজের শিশু সন্তানের লাশ বহন করতে না হয়।’

বাদী পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি আকিদুল ইসলাম এবং তার সঙ্গে ছিলেন জেলা পিপি এস এম মশিউর রহমান। তারা বলেন, আদালত একটি দৃষ্টান্তমূলক রায় দিয়েছেন। এই রায়ে ভুক্তভোগী পরিবারসহ জেলাবাসী সবাই খুশি।

এদিকে আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী না থাকায় রাষ্ট্র কর্তৃক নিযুক্ত আইনজীবী আশরাফুল ইসলাম বলেন, মামলায় দাখিলকৃত তথ্য-প্রমাণ সঠিক ছিল এবং তার ভিত্তিতেই আদালত এই রায় দিয়েছেন। আসামি পক্ষ চাইলে উচ্চ আদালতে আপিল করার সুযোগ পাবে।

উল্লেখ্য, রায়ে জরিমানা করা পাঁচ লাখ ২০ হাজার টাকা পরিশোধ করা না হলে, দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির সম্পত্তি ক্রোক করে তা ক্ষতিপূরণ হিসেবে ভুক্তভোগী পরিবারকে দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)