স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
হাইব্রিড বীজ সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক কোটি টাকা আত্মসাৎ ও জাল পে-অর্ডার তৈরির অভিযোগে তিনজনের বিরুদ্ধে যশোরের আদালতে মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) যশোর শহরের ষষ্ঠিতলাপাড়ার বাসিন্দা ও আলী সিড ফার্ম এবং আলী কোল্ড স্টোরেজের স্বত্বাধিকারী শাহনেওয়াজ আলী এ মামলা করেন।
সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সঞ্জয় পাল অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করার জন্য কোতোয়ালি থানার ওসিকে আদেশ দিয়েছেন।
আসামিরা হলেন, ঢাকার সবুজবাগ এলাকার বাসিন্দা ও এএন ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী ইয়াসমিন আনোয়ার ও তার দুই সহযোগী ছয়োয়ার এবং জিয়াউদ্দীন।
মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, ইউএসএইড এগ্রিকালচার প্রোগ্রাম প্রজেক্টে চাকরির সুবাদে ঢাকার আরিফুর রহমানের মাধ্যমে আসামিদের সাথে শাহনেওয়াজ আলীর পরিচয়। অভিযুক্তরা বিদেশ থেকে উন্নতমানের হাইব্রিড ধান ও সবজির বীজ আমদানিকারক দাবি করে বাদীকে ব্যবসায়িকভাবে বীজ সরবরাহের প্রস্তাব দেন। ৫ জুলাই ঢাকার একটি হোটেলে বৈঠকে এক কোটি টাকা অগ্রিম প্রদান করলে একই দিনে বীজ সরবরাহের আশ্বাস দেওয়া হয়।
ব্যবসায়ী শাহনেওয়াজ আলীর আস্থা অর্জনের উদ্দেশ্যে আসামিরা তার প্রতিষ্ঠানের নামে এক কোটি পাঁচ লাখ টাকার একটি পে-অর্ডার নিরাপত্তা হিসেবে দেন এবং জানান, বীজ সরবরাহ না হলে ওই পে-অর্ডারের মাধ্যমে টাকা ফেরত নেওয়া যাবে। পে-অর্ডারের কপি যাচাই করে তা সঠিক মনে হওয়ায় তিনি আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক যশোর শাখায় তার দুটি ব্যবসায়িক একাউন্ট থেকে আরটিজিএসের মাধ্যমে অভিযুক্তদের প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে মোট এক কোটি টাকা পাঠান। টাকা পাঠানোর পরও বীজ সরবরাহ না করায় সন্দেহ সৃষ্টি হলে শাহনেওয়াজ আলী প্রাইম ব্যাংক ঢাকার পান্থপথ শাখায় গিয়ে জানতে পারেন, তাকে দেওয়া পে-অর্ডারটি জাল বা ক্লোন কপি। বিষয়টি জানার পর ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট হিসাবের লেনদেন সাময়িকভাবে স্থগিত করে এবং সাধারণ ডায়েরি করার পরামর্শ দেন।
সে অনুযায়ী ৬ জুলাই ব্যবসায়ী শাহনেওয়াজ আলী যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় জিডি করেন। পরে আদালতে এই মামলা করেন।