যশোর, বাংলাদেশ || সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

কাশিমপুর কারাগার পলাতক রিম্পার গ্রামে তোলপাড়

মেহেরপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ : রবিবার, ১৯ জুলাই,২০২৬, ১১:০৬ এ এম
আপডেট : রবিবার, ১৯ জুলাই,২০২৬, ০৩:২৭ পিএম
কাশিমপুর কারাগার পলাতক রিম্পার গ্রামে তোলপাড়

গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে প্রাচীর টপকে পালিয়ে যাওয়া সাজাপ্রাপ্ত বন্দী রিম্পা খাতুনকে ঘিরে এখন তোলপাড় চলছে তার মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার গ্রামে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক তৎপরতা, আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে খোঁজাখুঁজি এবং রিম্পার অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে পুরো এলাকাজুড়ে চলছে তীব্র আলোচনা।

গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে রিম্পা খাতুন পালিয়ে যাওয়ার পর থেকেই তিনি আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন। পলাতক হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই পুলিশ ও র‌্যাব গাংনী উপজেলার রায়পুর গ্রামে তার বাবার বাড়িসহ বিভিন্ন সম্ভাব্য স্থানে জোরদার তল্লাশি শুরু করে। এরপর থেকেই গ্রামজুড়ে শুরু হয়েছে নানা গুঞ্জন। স্থানীয়দের দাবি, রিম্পাকে নিয়ে এর আগেও নানা ধরনের চুরির অভিযোগ শোনা গেলেও, কারাগারের মতো সুরক্ষিত স্থান থেকে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় তারা চরম বিস্মিত। গ্রামের চায়ের দোকান থেকে শুরু করে পাড়ার আড্ডা, সবখানেই এখন একটাই প্রশ্ন, কীভাবে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে থাকা একটি কারাগারের এত উঁচু প্রাচীর টপকে পালাতে পারলেন একজন নারী বন্দী?

রিম্পার দাদি আক্তারি বেগম তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘রিম্পার বাবা-মায়ের প্রায় ১৮ বছর আগে বিচ্ছেদ হয়ে গেছে। এরপর থেকে রিম্পা তার মায়ের সঙ্গে ঢাকাতেই থাকতো। মাঝে মাঝে সে আমার বাড়িতে বেড়াতে আসতো। কিন্তু বেড়াতে এসেও সে আমার ঘরের অনেক জিনিসপত্র এবং পাশের বাড়ির মোবাইল ফোনসহ কিছু জিনিস চুরি করে নিয়ে গিয়েছিল। এখন শুনছি সে নাকি কারাগার থেকে পালিয়েছে।ৎ

তিনি জানান, রিম্পার বিয়ে হয়েছে গাংনী উপজেলার নওদাপাড়া গ্রামের ফারুক হোসেনের সাথে। বিয়ের পর থেকে ফারুক ও রিম্পা ঢাকাতেই বসবাস করেন। তবে তারা ঢাকার কোথায় থাকেন বা কী কাজ করেন, তা তিনি জানেন না। রিম্পা নিজেকে কখনো গার্মেন্টস কর্মী আবার কখনো আয়ার কাজ করেন বলে দাবি করতেন।

কারাগার থেকে পালানোর এই দুঃসাহসিক খবরে এলাকার মানুষ অবাক ও বিস্মিত হয়েছেন। কীভাবে একজন বন্দী এভাবে পালাতে পারে, তা নিয়ে প্রতিবেশীদের কৌতূহলের শেষ নেই। রায়পুর গ্রামের বাসিন্দা মফিজ উদ্দীন ও সাহাজান আলী বলেন, রিম্পা কোনো বড় গ্যাং বা অপরাধী চক্রের সদস্য নয়, আবার বড় কোনো চাঞ্চল্যকর মামলারও আসামি নয়। তাহলে তার এত বড় সাহস কীভাবে হলো? কারাগারের মতো উঁচু প্রাচীর সে কীভাবে টপকালো, এসব প্রশ্ন সবার মনে ঘুরপাক খাচ্ছে। একই সাথে তারা কারারক্ষীদের দায়িত্ব পালন ও অবহেলা নিয়ে তীব্র সংশয় প্রকাশ করেছেন।

ওই গ্রামের মার্জুল হোসেন বলেন, ‘আমরা শুনেছি মেয়েটি মাঝে মধ্যে এই গ্রামে তার দাদির বাড়ি বেড়াতে আসতো। সে এসে তার ভিক্ষুক দাদির ঘরের জিনিসপত্রসহ পাশের বাড়ির মোবাইল ফোন চুরি করে পালিয়ে যেত।’

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক আটটার দিকে গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রাচীর টপকে অভিনব কায়দায় পালিয়ে যান রিম্পা খাতুন। তিনি ঢাকার ধানমন্ডি থানার একটি ভ্রাম্যমাণ আদালতের দেওয়া তিন মাসের সাজাপ্রাপ্ত বন্দী ছিলেন। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার পর থেকেই তাকে পুনরায় গ্রেপ্তারে চিরুনি অভিযান চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)