বাগেরহাট প্রতিনিধি
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার জিউধরা ইউনিয়নের একরামখালী গ্রামের আইয়ুব আলী খানের বাড়ি থেকে পঞ্চগ্রাম সম্মিলিত ইউসুফ আলী মাদরাসা পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। দীর্ঘদিনের অবহেলা ও চলাচলের অনুপযোগী অবস্থার অবসান ঘটিয়ে নতুন এই সড়ক স্থানীয় জনজীবনে স্বস্তি ফিরিয়েছে। ফলে শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ হাজারো মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত এখন অনেক সহজ, নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বছরের পর বছর সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে এলাকাবাসী চরম দুর্ভোগে ছিলেন। বর্ষা মৌসুমে কাদামাটিতে সড়কটি প্রায় অচল হয়ে পড়তো। শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয় ও মাদ্রাসায় যেতে হতো নানা ঝুঁকি নিয়ে। কৃষকদের কৃষিপণ্য বাজারজাত করতেও অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হতো। এ কারণে দীর্ঘদিন ধরেই এলাকাবাসীর অন্যতম প্রধান দাবি ছিল সড়কটির উন্নয়ন।
স্থানীয় জনগণের সেই দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আব্দুল আলীম সড়ক নির্মাণের জন্য তিন লাখ টাকা বরাদ্দ দেন। ওই বরাদ্দের অর্থে নির্মাণকাজ সম্পন্ন হওয়ার পর এলাকায় স্বস্তির পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
সম্প্রতি নির্মাণকাজ শেষে সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আব্দুল আলীম আকস্মিকভাবে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি সড়কের নির্মাণমান, কাজের অগ্রগতি এবং বরাদ্দকৃত অর্থের ব্যবহার সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন। পরিদর্শন শেষে তিনি নির্মাণকাজের মান নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান।
পরিদর্শনকালে তিনি বলেন, ‘জনগণের কল্যাণে বরাদ্দকৃত অর্থ সঠিকভাবে ব্যয় হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সড়কটি নির্মাণের ফলে স্থানীয় মানুষের যাতায়াত সহজ হয়েছে। পাশাপাশি এলাকার সার্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থারও উন্নয়ন ঘটেছে। উন্নয়নের সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য।’
তিনি আরও বলেন, ‘যেকোনো উন্নয়ন প্রকল্পের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ প্রয়োজন। এলাকাবাসী যদি সড়কটির যথাযথ পরিচর্যা করেন, তাহলে এটি দীর্ঘদিন টেকসই থাকবে এবং ভবিষ্যতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হবে।’
স্থানীয় জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সংসদ সদস্য বলেন, উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের সফলতা ধরে রাখতে জনগণের সচেতনতা ও অংশগ্রহণ অপরিহার্য। সরকারি অর্থে নির্মিত সম্পদ রক্ষা করা প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব।
সড়কটি ব্যবহারকারী স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আগে এই পথে চলাচল করতে গিয়ে তাদের নানাভাবে দুর্ভোগ পোহাতে হতো। বিশেষ করে বর্ষাকালে কাদা ও জলাবদ্ধতার কারণে চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়তো। অনেক সময় শিক্ষার্থীরা সময়মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পৌঁছাতে পারতো না। অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নেওয়াও ছিল অত্যন্ত কষ্টসাধ্য।
পঞ্চগ্রাম সম্মিলিত ইউসুফ আলী মাদরাসার কয়েকজন অভিভাবক বলেন, নতুন সড়ক নির্মাণের ফলে তাদের সন্তানদের যাতায়াত এখন অনেক বেশি নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হয়েছে। আগে বৃষ্টির দিনে সন্তানদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠাতে উদ্বেগে থাকতে হলেও এখন সেই পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের কারণে ব্যবসায়িক কার্যক্রমও সহজ হয়েছে। বাজারে পণ্য পরিবহনে সময় ও ব্যয়- দুইই কমেছে। এর ইতিবাচক প্রভাব স্থানীয় অর্থনীতিতেও পড়তে শুরু করেছে।
এলাকাবাসীর মতে, এই সড়ক নির্মাণ শুধু একটি অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়; এটি গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত এই দাবি বাস্তবায়িত হওয়ায় তারা সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয়দের বিশ্বাস, এ ধরনের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকলে জিউধরা ইউনিয়নের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে। পাশাপাশি শিক্ষা, কৃষি ও ব্যবসা-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
নবনির্মিত দেড় কিলোমিটার এই সড়ক এখন শুধু একটি যোগাযোগ মাধ্যম নয়; এটি এলাকাবাসীর আশা, স্বস্তি ও উন্নয়নের প্রতীক হয়ে উঠেছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এই সড়ককে ঘিরে ভবিষ্যতে এলাকার সামাজিক ও অর্থনৈতিক অগ্রগতি আরও ত্বরান্বিত হবে।