যশোর, বাংলাদেশ || মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

অবসান হচ্ছে আট বছরের অপেক্ষা

কালিয়া সেতু উদ্বোধন দুই মাসের মধ্যে

জান্নাতুল বিশ্বাস

, কালিয়া (নড়াইল)

প্রকাশ : রবিবার, ২৩ আগস্ট,২০২৬, ০৭:২০ পিএম
আপডেট : রবিবার, ২৩ আগস্ট,২০২৬, ০৭:৫৮ পিএম
কালিয়া সেতু উদ্বোধন দুই মাসের মধ্যে

নানা জটিলতা ও দফায় দফায় মেয়াদ বাড়ানোর পর অবশেষে শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে নড়াইলের কালিয়া সেতুর নির্মাণকাজ। ইতোমধ্যে প্রকল্পের প্রায় ৯৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। বর্তমানে চলছে শেষ ধাপের ঢালাই, সংযোগ সড়ক ও ফিনিশিংয়ের কাজ। সবকিছু ঠিক থাকলে দীর্ঘ আট বছরের অপেক্ষার পর আগামী দুই মাসের মধ্যে সেতুটি উদ্বোধনের জন্য প্রস্তুত হবে বলে জানিয়েছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে একনেক সভায় কালিয়া সেতু নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন পায়। ২০১৮ সালের ১৮ এপ্রিল প্রায় ৬৫ কোটি তিন লাখ টাকা ব্যয়ে সেতুটির নির্মাণকাজের কার্যাদেশ দেওয়া হয়। ২০১৯ সালের ৩০ জুনের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নকশাগত পরিবর্তন, নদীপথে নৌযান চলাচলের সুবিধা নিশ্চিত করতে নতুন নকশা প্রণয়ন, নির্মাণাধীন পিলারে বাল্কহেডের ধাক্কায় ক্ষয়ক্ষতি এবং বিভিন্ন কারিগরি জটিলতায় প্রকল্পের মেয়াদ সাত দফা বাড়ানো হয়। একই সঙ্গে বেড়েছে প্রকল্প ব্যয়। বর্তমানে প্রকল্প ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৩৫ কোটি ৯২ লাখ টাকা।

প্রকল্প-সংশ্লিষ্টরা জানান, নির্মাণকাজের শুরু থেকেই নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হয়। নির্মাণাধীন নয় নম্বর পিলারে একাধিকবার বালুবোঝাই বাল্কহেডের ধাক্কা লাগে। পরে নৌযান চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে নকশা পরিবর্তন করে 'স্টিল আর্চ স্প্যান' সংযোজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ এগিয়ে নেওয়ার পর সেতুর মূল স্ট্রাকচার, স্টিল স্প্যানসহ গুরুত্বপূর্ণ অধিকাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

নড়াইল-কালিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কের ২১তম কিলোমিটারে বারইপাড়া এলাকায় নবগঙ্গা নদীর ওপর নির্মাণাধীন সেতুটির দৈর্ঘ্য ৬৫১ দশমিক ৮৩ মিটার এবং প্রস্থ ১০ দশমিক ২৫ মিটার। সেতুটি চালু হলে নড়াইল সদর ও কালিয়া উপজেলার মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হবে। পাশাপাশি নবগঙ্গা নদীর দুই পাড়ের তিন লক্ষাধিক মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।

বছরের পর বছর একটি সেতুর অভাবে খেয়া পারাপার, দীর্ঘ পথ ঘুরে যাতায়াত এবং কৃষিপণ্য পরিবহনে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় এটাই ছিল নবগঙ্গা নদীর দুই পাড়ের মানুষের নিত্যদিনের বাস্তবতা। মাছ ব্যবসায়ী মহিদুল ইসলাম বলেন, 'খেয়াঘাটের ওপর নির্ভর করায় পারাপারেই আধা ঘণ্টার বেশি সময় নষ্ট হয়। পচনশীল মাছ দ্রুত বাজারে পৌঁছাতে না পারলে ব্যবসায় বড় ধরনের লোকসান হয়। সেতুটি চালু হলে ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দুর্ভোগও কমবে।'

কালিয়ার ব্যবসায়ী হাজি আলমগীর কবির বলেন, 'একটি সেতুর অভাবে প্রায় ৫০ বছর ধরে কালিয়ার মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। আমিও ব্যক্তিগতভাবে দুইবার নৌকাডুবির মতো দুর্ঘটনায় পড়েছি এবং অলৌকিকভাবে বেঁচে ফিরেছি। সেতুটি চালু হলে শুধু কালিয়া নয়, নড়াইল, গোপালগঞ্জ ও খুলনার মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থায়ও বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। বর্তমানে কালিয়া উপজেলা সদরে যেতে প্রায় দুই ঘণ্টা সময় লাগে। সেতুটি চালু হলে সময় অনেক কমে আসবে। এতে ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষিপণ্য পরিবহন ও জরুরি সেবা গ্রহণ সহজ হবে।'

আব্দুস সাত্তার বলেন, 'একটি সেতুর জন্য আমরা বছরের পর বছর অপেক্ষা করেছি। খেয়া পার হয়ে স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল ও বাজারে যেতে হয়েছে। এখন কাজ প্রায় শেষ হওয়ায় মনে হচ্ছে আমাদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হতে যাচ্ছে।'

স্থানীয় ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, 'সেতুটি চালু হলে কৃষিপণ্য পরিবহন সহজ হবে, ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি আসবে এবং যাতায়াত ব্যয় অনেক কমে যাবে। এই সেতু কালিয়ার অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।’

দ্রুত নির্মাণকাজে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা আবদুল ওয়াদুদ খান লিটন বলেন, 'সেতুর মূল স্ট্রাকচারাল কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এখন শেষ পর্যায়ের কাজ দ্রুত গতিতে চলছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সব কাজ শেষ করে সেতুটি কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করতে পারবো বলে আমরা আশাবাদী।'

নড়াইল সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলাম বলেন, 'সেতুর মূল স্ট্রাকচার ও স্টিল স্প্যানের কাজ শেষ হয়েছে। সামান্য কিছু ঢালাইয়ের কাজ বাকি। বর্তমানে প্রকল্পে কোনো জটিলতা নেই, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানেরও কাজের কোনো ঘাটতি নেই। আশা করছি, আগামী দুই মাসের মধ্যে সেতুটি উদ্বোধনের জন্য প্রস্তুত হবে। উদ্বোধনের পরপরই যানবাহন চলাচলের জন্য সেতু উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।’

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)