স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
‘সেলিব্রেটিং হোল চাইল্ড ডেভলপমেন্ট ইন বাংলাদেশ: দি ওয়ে ফরোয়ার্ড’ শীর্ষক কর্মশালায় যশোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আল মাসুম বিল্লাহ বলেছেন, ভালো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়লেই যে ভালো অভিভাবক হওয়া যায়, সেটা ঠিক নয়। ভালো অভিভাবক হতে হলে শিশুর বিকাশে ভালো ভূমিকা রাখতে হবে। ইসিডি কমিটি যদি সত্যিকারার্থে কার্যকর করা যায়, তবে আমাদের শিশুদের সঠিক বিকাশ সম্ভব হবে।
সোমবার যশোরের একটি অভিজাত হোটেলে ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্নেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট এবং বাংলাদেশ ইসিডি নেটওয়ার্কের আঞ্চলিক হাবের সচিবালয় জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
এতে জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি, স্থানীয় পর্যায়ের ইসিডি কমিটির সদস্য, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, উন্নয়ন সহযোগী প্রতিনিধি, গবেষক ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে শিশুর স্বাস্থ্য, পুষ্টি, প্রারম্ভিক শিক্ষা, সুরক্ষা, প্রয়োজনীয় শিশুযত্ন এবং পরিবার ও কমিউনিটির সহায়তাকে সমষ্টিভাবে বিবেচনা করে শিশুর সামগ্রিক বিকাশ নিশ্চিত করার উপর গভীর গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
কর্মশালায় বলা হয় বাংলাদেশে শিশুর প্রারম্ভিক যত্ন ও বিকাশের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলেও প্রতিটি শিশুর সম্ভাবনার পূর্ণ বিকাশ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন খাত ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আরও কার্যকর সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মেরীনা আখতার। এরপর কর্মশালার মূল বিষয়গুলো নিয়ে গবেষণার একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরা হয়। শিশুর প্রাক-শৈশব উন্নয়নের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে কর্মশালায় মূল নিবন্ধ তুলে ধরেন বাংলাদেশ ইসিডি নেটওয়ার্কের ভাইস-চেয়ার মাহমুদা আখতার। পলিসি লেভেলে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সমস্যা ও সম্ভাবনা বিষয়ক গবেষণা ফলাফল তুলে ধরেন বিআইজিডির সিনিয়র রিসার্চ কো-অর্ডিনেটর জেমস ওয়ার্ড খাকসি।
আলোচকরা প্রাক-শৈশব উন্নয়ন ধারণার মূল লক্ষ্য তুলে ধরে বলেন, ইসিডি হলো শিশুর স্বাস্থ্য, পুষ্টি, প্রাথমিক শিক্ষা, সুরক্ষা, প্রয়োজনীয় সহায়তা এবং সামাজিক ও মানসিক বিকাশকে একই কাঠামোর আওতায় নিয়ে আসা। শিশুর প্রাক-শৈশবের বছরগুলোতে যথাযথ যত্ন ও বিকাশের সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে তার ভবিষ্যৎ সক্ষমতা ও সম্ভাবনা আরও শক্তিশালী হবে।
শিশুর পূর্ণাঙ্গ বিকাশ নিশ্চিত করতে হলে শুধু কোনো একটি প্রতিষ্ঠান বা খাতের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। সরকার, উন্নয়ন সংস্থা, পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই প্রতিটি শিশুর জন্য নিরাপদ ও সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব।
কর্মশালায় অন্যদের মধ্যে আলোচনা করেন যশোর মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. আহমদ ফেরদৌস জাহাঙ্গীর, প্রেসক্লাব যশোরের আহ্বায়ক ও দৈনিক কল্যাণ সম্পাদক সাংবাদিক একরাম-উদ্-দ্দৌলা, জেলা শিশুবিষয়ক কর্মকর্তা সাধন বিশ্বাস, প্রেসক্লাব যশোরের সদস্য সচিব ও দৈনিক গ্রামের কাগজ সম্পাদক মবিনুল ইসলাম মবিন, দৈনিক লোকসমাজের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আনোয়ারুল কবীর নান্টু, দৈনিক যুগান্তর ব্যুরো প্রধান তৌহিদ জামান, দীপ স্বাস্থ্য শিক্ষা কল্যাণ ফাউন্ডেশনের কনসালট্যান্ট আক্তারুল আলম, নিউএইজের প্রতিনিধি সাইফুর রহমান সাইফ, গণমাধ্যমবিষয়ক উন্নয়ন সংগঠন ‘সমষ্টির’ কর্মসূচি সমন্বয়কারী জাহিদুল হক খান।