সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে ২৫ বিঘা পৈতৃক জমির চিংড়ি ঘেরে হামলা, ভাঙচুর ও দশ লক্ষাধিক টাকার মাছ লুটের প্রতিবাদে সাতক্ষীরায় সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের অস্থায়ী কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে শহরের সুলতানপুর এলাকার মৃত ফজলুল কাদেরের মেয়ে ফারজানা কাদের অরিন এই অভিযোগ করেন।
লিখিত বক্তব্যে ফারজানা কাদের অরিন বলেন, 'দেবহাটা থানার বালিখা ও বিল শিমুলবাড়িয়া মৌজায় অবস্থিত ধাপার ঘেরে ৮ দশমিক ৩৩ একর সম্পত্তি রেখে পিতা ফজলুল কাদের মারা যান। এরপর মা ও আমাদের তিন ভাই বোনকে অসহায় পেয়ে আমার দাদা আবুল কাশেম ও তাদের ওয়ারিশ শরিফুল ইসলাম ও আলমগীর হোসেন পৈতৃক জমিজমা অবৈধভাবে ভোগদখল করতে থাকে। আমরা জমির হারির টাকা কিংবা সঠিক জমির ভাগ চাইলে তারা তা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। দীর্ঘ ১৬ বছর আইনি লড়াইয়ের পর ২০১৮ সালে আমাদের বৈধ সম্পত্তিতে অবস্থান নেই এবং সেই আমাদের ওই পৈতৃক সম্পত্তিতে দীর্ঘদিন ধরে মাছের ঘেরে বাগদা ও গলদা চিংড়ি চাষ করে আসছিলাম। কিন্তু শরিফুল ইসলাম গংরা আমাদের ওই পৈতৃক জমি জবর দখলের জন্য বিভিন্নভাবে হুমকি ধামকি দিতে থাকে।'
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘উচ্চ আদালতের নির্দেশ অমান্য করে শরিফুল, আলমগীর ও তুহিনের নেতৃত্বে লাঠিয়াল বাহিনী নিয়ে গত ১৮ আগস্ট সকালে আমাদের ২৫ বিঘার মাছের ঘেরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করে। এসময় তারা ঘেরের পাহারাঘর ভাঙচুর ও কর্মচারীদের মারপিট করে ঘের থেকে দশ লাখ টাকার গলদা ও বাগদা চিংড়ি লুট করে নিয়ে যায়। যাওয়ার সময় তারা ঘেরের মধ্যে বিষ ঢেলে দিয়ে যায়। এতে ঘেরের বাকি সব মাছ মারা যায়। পরবর্তীতে শরিফুল, আলমগীর, তুহিন ও জামায়াত নেতা বনি আমিনের নেতৃত্বে সদরের শিমুলবাড়িয়া এলাকায় সাত বিঘার আরেকটি ঘেরে হামলা চালিয়ে লুটপাট করা হয়েছে। এভাবে তারা আমাদেরকে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে।'
তিনি সংবাদ সম্মেলনে পৈতৃক ২৫ বিঘা সম্পত্তির চিংড়ি ঘের রক্ষা করার জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।