স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
যৌথ বিনিয়োগের নামে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে ৮৭ লাখ দশ হাজার টাকা নেওয়ার পর তা ফেরত না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। নিজের সঞ্চয়, ধারদেনা এবং চড়া সুদে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে টাকা নিয়ে কথিত ওই প্রকল্পে বিনিয়োগ করেছিলেন ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার নওদাগ্রামের বাসিন্দা মো. কবির ইকবাল। এখন টাকা ফেরত না পেয়ে পাওনাদারদের চাপের মুখে চরম বিপাকে পড়েছেন তিনি।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলনে নিজের দুরবস্থার কথা তুলে ধরে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা চান কবির ইকবাল। লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, বিনিয়োগের টাকা ফেরত না পাওয়ায় বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে তার ঋণ জমেছে। পাওনাদাররা টাকার জন্য বাড়িতে এসে চাপ দিচ্ছেন।
কবির ইকবাল জানান, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের দিকে সঞ্জয় কুমার নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে সঞ্জয় তাকে যশোর শহরের চাঁচড়া এলাকায় আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল, রিসোর্ট ও সিটি অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণের একটি যৌথ বিনিয়োগ প্রকল্পের কথা জানান। প্রায় ৬০ কোটি টাকার ওই প্রকল্পে বিনিয়োগ করলে লাভের পাশাপাশি প্রকল্পের মালিকানায় অংশীদার হওয়ার সুযোগ রয়েছে বলেও তাকে জানানো হয়।
তার ভাষ্য, সঞ্জয় কুমারের মাধ্যমে আকবর হোসেন সুমন, মোস্তাক আহমেদ, আক্তারুজ্জামানসহ কয়েকজনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে তাকে সাতক্ষীরার মধু মিয়ার বাগানবাড়িতে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে নেওয়া হয়। সেখানে বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীসহ অনেক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে প্রকল্পের সুযোগ-সুবিধা তুলে ধরে তাকে বিনিয়োগে উৎসাহিত করা হয়।
কবির ইকবাল আরও বলেন, তাকে বলা হয়েছিল ভারতের একটি নামকরা হাসপাতালের সঙ্গে চুক্তি করে প্রস্তাবিত হাসপাতাল পরিচালনা করা হবে। ভারত থেকে চিকিৎসক এনে সেখানে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। হাসপাতাল কমপ্লেক্সে বিনিয়োগকারীদের অ্যাপার্টমেন্ট দেওয়ার কথাও বলা হয়।
এসব প্রস্তাবে বিশ্বাস করে পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে তিনি বিনিয়োগে সম্মত হন। এরপর বিভিন্ন সময়ে ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ও নগদে মোট ৮৭ লাখ দশ হাজার টাকা দিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
তবে টাকা দেওয়ার পর দীর্ঘ সময় পার হলেও প্রকল্পের দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখতে পাননি বলে অভিযোগ করেন কবির। একপর্যায়ে বিনিয়োগের টাকা ফেরত চাইলে অভিযুক্তরা নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। এতে তিনি আর্থিক ও মানসিকভাবে চরম সংকটে পড়েছেন বলে জানান।
লিখিত বক্তব্যে কবির আরও অভিযোগ করেন, তার মতো আরও অনেকের কাছ থেকেও বিভিন্নভাবে টাকা নেওয়া হয়েছে। সঞ্জয় কুমার, আক্তারুজ্জামান, আনিসুজ্জামান ও মোস্তাক আহমেদসহ কয়েকজনের মাধ্যমে টাকা সংগ্রহ করে রজব হাজির কাছে দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
কবির ইকবাল জানান, টাকা ফেরত চাওয়ার পর তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে। এ ঘটনায় গত ১৩ জুলাই ঢাকার পল্টন থানায় একটি মামলা করেছেন বলেও জানান তিনি। মামলার নম্বর ৭৪৭/২০২৬।
তিনি বলেন, তার বিনিয়োগ করা টাকার বড় একটি অংশ ধার ও সুদে নেওয়া। টাকা ফেরত না পাওয়ায় তার পরিবারও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে এবং পাওনাদারদের চাপের কারণে তিনি চরম মানসিক চাপে রয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অভিযোগটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত, বিনিয়োগের টাকা উদ্ধারে ব্যবস্থা এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান কবির ইকবাল।
অভিযোগের বিষয়ে আক্তারুজ্জামানের ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, সঞ্জয় কুমার, আকবর হোসেন সুমন ও মোস্তাক আহমেদ নামে কাউকে তিনি চেনেন না।
সঞ্জয় কুমার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কবির তার কাছ থেকে ধার হিসেবে এক লাখ টাকা নিয়েছিলেন। সেই টাকা পরিশোধ না করায় তার বিরুদ্ধে এ অভিযোগ আনা হয়েছে। আকবর হোসেন সুমন, মোস্তাক আহমেদ ও আক্তারুজ্জামানকে তিনি চেনেন না বলেও দাবি করেন।
মোস্তাক আহমেদের ব্যবহৃত ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ধরেননি। পরে নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
অন্যদিকে আকবর হোসেন সুমন দেশের বাইরে থাকায় তার ব্যবহৃত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।