যশোর, বাংলাদেশ || সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

ভূগর্ভ থেকে বালু উত্তোলনের ‘মহোৎসব’

বাগেরহাট প্রতিনিধি

প্রকাশ : সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর,২০২৬, ০৬:৪৯ পিএম
ভূগর্ভ থেকে বালু উত্তোলনের ‘মহোৎসব’

চিতলমারীতে ভূগর্ভ থেকে বালু উত্তোলনের অভিযোগ ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বলগেট ও ড্রেজার দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার ঘনফুট বালু উত্তোলন ও পরিবহনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি চক্রের বিরুদ্ধে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জরিমানা ও নিষেধাজ্ঞার পরও থামছে না এই বালু উত্তোলন। এতে নদীতীরবর্তী জনপদে দেখা দিয়েছে মাটি দেবে যাওয়ার আশঙ্কা; হুমকির মুখে পড়েছে বসতবাড়ি, সড়ক, কৃষিজমি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাজার ও ধর্মীয় স্থাপনা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ১৫ থেকে ২০টি শ্যালো ইঞ্জিনচালিত ড্রেজার দিয়ে ভূগর্ভের বেলেমাটি তোলা হচ্ছে। এসব ড্রেজারের মাধ্যমে মাটির গভীরে পাইপ ঢুকিয়ে প্রথমে পানি দিয়ে বেলেমাটি ভেজানো হয়। পরে আরেকটি পাইপ দিয়ে পানি মেশানো বালু-মাটি চুষে ওপরে তুলে নেওয়া হয়। ফলে, ভূগর্ভের মাটি ফাঁপা হয়ে বিভিন্ন স্থানে ধসের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এ ধরনের ড্রেজারকে স্থানীয়রা 'আত্মঘাতী ড্রেজার' বলে অভিহিত করছেন। তাঁদের দাবি, এসব মেশিন দিয়ে খড়মখালী, পাঙ্গাশিয়া, নালুয়া, পিঁপড়াডাঙ্গাসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বেপরোয়াভাবে বালু উত্তোলন চলছে। এর ফলে সরকারি রাস্তা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাজার, মসজিদসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এবং পরিবেশ মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ছে।

অন্যদিকে, চিতলমারী সদর বাজারসংলগ্ন ছোট খালে বিশাল আকৃতির বলগেট দিয়ে বালু পরিবহনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, এসব বলগেট চলাচলের সময় সৃষ্ট ঢেউয়ের তোড়ে বাবুগঞ্জ বাজার থেকে চিতলমারী বাজার পর্যন্ত দুটি গুরুত্বপূর্ণ পাকা গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

ইতোমধ্যে সড়ক দুটির বিভিন্ন অংশ ভেঙে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। শুধু সড়ক নয়, বলগেটের ধাক্কায় বোয়ালিয়া-খলিশাখালী লোহার পুলটি হেলে পড়েছে। ঝুঁকিতে রয়েছে শেরে বাংলা কলেজ জামে মসজিদসহ আশপাশের বিভিন্ন স্থাপনা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নবীর সরদার ও কামাল মেম্বারের বলগেট দিয়ে লাইসেন্স ও রুট পারমিট ছাড়াই বালু পরিবহন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে চরকুড়াতলা এলাকার বিভিন্ন কৃষিজমি ও জলাশয়ের শ্রেণি পরিবর্তনের অভিযোগও করেছেন তাঁরা। তবে অভিযোগের বিষয়ে নবীর সরদার দাবি করেছেন, তার ট্রলার ও বলগেটের প্রয়োজনীয় রুট পারমিট ও লাইসেন্স রয়েছে এবং বলগেটে বালু পরিবহন অবৈধ নয়।

অবৈধ ড্রেজার ও বলগেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং নদী-খাল ও সড়ক রক্ষার দাবিতে উপজেলার অর্ধশতাধিক মানুষ বাগেরহাট জেলা প্রশাসক, চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত আবেদন করেছেন।

আবেদনকারী বাশার খান, মো. জসিম শেখ ও মো. রফিকুল ইসলামসহ স্থানীয়রা বলেন, লাইসেন্স ও রুট পারমিটবিহীন অবৈধ বলগেট ও ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধ করতে হবে। গুরুত্বপূর্ণ দুটি পাকা গ্রামীণ সড়ক ও মসজিদ রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

তারা আরও বলেন, যত্রতত্র বালু উত্তোলন বন্ধে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন-২০১০ কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে নদী ও খালের তীর রক্ষায় স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা।

চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাদিজা আক্তার বলেন, ভূগর্ভের বালি বা মাটি উত্তোলন করা নিষিদ্ধ এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসন ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করছে।

তিনি বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে মন্ত্রণালয়ের চিঠি পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

 

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন