স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
কোটি কোটি টাকার ভিসা জালিয়াতির খবর দেখে যশোর ছুটে এসেছেন মুন্সীগঞ্জের এক ভুক্তভোগী। সুবর্ণভূমিতে সংবাদ প্রকাশের পরেই উন্মোচিত হতে শুরু করেছে আত্মগোপনে থাকা ‘আজাহার ইন্টারন্যাশনাল ওভারসিজ’-এর স্বত্বাধিকারী আজাহার উদ্দীন ও তার স্ত্রী চম্পা বেগমের প্রতারণার নতুন নতুন অধ্যায়।
সার্বিয়ার ভুয়া ভিসা দিয়ে সাড়ে সাত লাখ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগে শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) যশোর কোতোয়ালী মডেল থানায় এই দম্পতির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ওই ভুক্তভোগী।
অভিযোগকারী মুন্সীগঞ্জ জেলার শ্রীনগর গ্রামের বাসিন্দা মো. আসলাম (৫১)।
থানায় অভিযোগ জমা দেওয়ার পর ভুক্তভোগী মো. আসলাম বলেন, ‘আমি প্রায় নিঃস্ব হয়ে পড়েছিলাম। কোথায় যাব, কার কাছে বিচার চাইবো কিচ্ছু বুঝতে পারছিলাম না। হঠাৎ সুবর্ণভূমি পত্রিকা ও তাদের ডিজিটালে এই প্রতারক আজহারের জালিয়াতির খবরটি আমার চোখে পড়ে। সংবাদটি দেখেই আমি আশার আলো পাই এবং তৎক্ষণাৎ মুন্সীগঞ্জ থেকে যশোরে ছুটে আসি। সুবর্ণভূমি এই খবরটি সাহস করে সামনে এনেছে বলেই আজ আমার মতো ভুক্তভোগীরা আইনি লড়াইয়ের সাহস পাচ্ছে। এজন্য সুবর্ণভূমি পত্রিকা ও তাদের ডিজিটাল টিমের প্রতি আমি চিরকৃতজ্ঞ।’
থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগে আসলাম অভিযোগ করেন, ঢাকার পুরানা পল্টনের রুহামা ম্যানশনে অবস্থিত ‘গাজী ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস লি’ এবং ‘আজাহার ইন্টারন্যাশনাল ওভারসিজ’-এর স্বত্বাধিকারী আজহার উদ্দীন। তার স্ত্রী ও প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান চম্পা বেগম ২০২৫ সালের ৫ নভেম্বর তাকে সার্বিয়ার ভিসা দিয়ে বিদেশে পাঠানোর চুক্তি করেন। চুক্তি অনুযায়ী প্রথমে নগদ এক লাখ টাকা নেন তারা। পরবর্তীতে বিভিন্ন দফায় এক লাখ ৭০ হাজার, ৪০ হাজার, ৯০ হাজার, দুই লাখ এবং সর্বশেষ এক লাখ ৫০ হাজার টাকাসহ সর্বমোট সাত লাখ ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন আজহার দম্পতি।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, টাকা আদায়ের পর আসলামকে সার্বিয়ার একটি ভিসা প্রদান করা হয়। তবে তিনি নিজ দায়িত্বে ভিসাটি যাচাই-বাছাই করে জানতে পারেন সেটি পুরোপুরি ভুয়া। প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে আজহার উদ্দীন ও তার স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো সন্ধান মেলেনি। ঢাকার কার্যালয়ে গিয়েও কাউকে পাওয়া যায়নি। বিদেশে পাঠানোর মিথ্যা আশ্বাস ও ভুয়া ভিসা দিয়ে সাড়ে সাত লাখ টাকা আত্মসাৎ করায় আজহার ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং খোয়ানো টাকা উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন এই ভুক্তভোগী।
অভিযোগের বিষয়ে যশোর কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন জানান, নতুন পাওয়া লিখিত অভিযোগটির ভিত্তিতে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
উল্লেখ্য, যশোর নূতন উপশহরের ‘আজাহার ইন্টারন্যাশনাল ওভারসিজ’ ও ‘গাজী ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস’-এর আড়ালে ভুয়া ভিসা দিয়ে প্রায় তিন কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে আজহার উদ্দীনের দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা নিয়ে সুবর্ণভূমিতে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদটি প্রকাশের পর থেকে প্রতারণার শিকার আরও নতুন নতুন ভুক্তভোগী আইনি পদক্ষেপ নিতে পুলিশের শরণাপন্ন হতে শুরু করেছেন।