সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
সুবর্ণভূমি-
ছবি:
রাজধানীর ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হওয়া সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের (১৯) মরদেহ দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
সোমবার রাত ১১টার দিকে কপোতাক্ষ নদ পেরিয়ে ট্রলারে করে মরিয়মের মরদেহ শ্যামনগরের গাবুরা ইউনিয়নের সরদারপাড়ায় পৌঁছায়। মরদেহের সঙ্গে ছিলেন তার বাবা মাসুম বিল্লাহ, মা, দাদি, নানি, ফুপা, ফুপি ও ছোট চাচা মোতাসিম বিল্লাহসহ স্বজনেরা।
মরদেহ পৌঁছানোর পর রাত ১২টা ৩৫ মিনিটে গাবুরা পশ্চিমপাড়া সরদারবাড়ি জামে মসজিদের পাশে মরিয়মের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন স্থানীয় মাদরাসার শিক্ষক মাওলানা নুরুল হুদা। জানাজায় স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি ইউপি সদস্য গোলাম মোস্তফা এবং শ্যামনগর থানার এসআই অনিরুদ্ধ রায় ও বদিউজ্জামান উপস্থিত ছিলেন। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে স্বজনদের পুরোনো কবরের পাশে মরিয়মকে দাফন করা হয়।
এর আগে সোমবার সন্ধ্যার পর মরিয়মের দাফনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়। পারিবারিক কবরস্থানে খোঁড়া হয় নতুন কবর। কপোতাক্ষ নদের বেড়িবাঁধসংলগ্ন ইটের সড়ক ধরে সরদারপাড়ায় মরিয়মের বাবা মো. মাসুম বিল্লাহর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় শোকের পরিবেশ। বাড়ির সামনে নীরবে দাঁড়িয়ে ছিলেন প্রতিবেশীরা।
মরিয়মের চাচা মিলন সরদার প্রবাসে থাকায় তার স্ত্রী মুন্নী খাতুন বাড়িতে থেকে দাফনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেন। তিনি জানান, মরদেহবাহী গাড়িটি পদ্মা সেতু পার হয়ে খুলনার কয়রা হয়ে সড়কপথে আসে। পরে কয়রার কাশিরহাটখোলা খেয়াঘাট থেকে ট্রলারে করে মরিয়মের মরদেহ গাবুরার বাড়িতে নেওয়া হয়।
দাফন শেষে ইউপি সদস্য গোলাম মোস্তফা মরিয়মের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন এবং তার আত্মার মাগফিরাত কামনায় সবার কাছে দোয়া চান।
মরিয়মের স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দা ইয়াসিন সরদার জানান, ২০০৯ সালের ঘূর্ণিঝড় আইলার পর, তখন মরিয়মের বয়স দুই-তিন বছর, তিনি পরিবারসহ ঢাকায় চলে যান। এরপর থেকে ঢাকাতেই থাকতেন তিনি।
একই এলাকার ৮২ বছর বয়সী সাবেক গ্রাম পুলিশ গোলাম রহমান বলেন, ‘মেয়েটি ছোটবেলা থেকেই ঢাকায় থাকত। মাঝে মাঝে শুনতাম, সে লেখাপড়া করছে। এসএসসি পরীক্ষাও দিয়েছিল। কিন্তু এত অল্প বয়সে এমন একটি ঘটনা কেন ঘটল, তার কিছুই আমরা বুঝতে পারছি না।’
নাতনির মৃত্যুর খবর পেয়ে মরিয়মের দাদা ইউনুস সরদার শোকে বাড়ির এক কোণে নীরবে বসে ছিলেন।
এর আগে রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তাঁর বাবা মাসুম বিল্লাহ শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন।
মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ গাজী নজরুল ইসলাম ও মাকসুদা বেগমকে গ্রেপ্তার করেছে। ওবায়দুর রহমান পলাতক রয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।