রাসেল মাহমুদ
, যশোর
যশোরের নরসিংহকাটি গ্রামে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে সম্প্রীতি ও মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন এক ছাত্রনেতা।
সদর উপজেলার কচুয়া ইউনিয়নের নরসিংহকাটি গ্রামের মালোপাড়ায় প্রবেশের একমাত্র জরাজীর্ণ কাঁচা রাস্তাটি নিজ অর্থায়নে সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী করে দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা মো. রনি ইসলাম। তিনি জেলা ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক ও কচুয়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব।
ভৈরব নদীর তীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা মালোপাড়া মহল্লাটিতে ৫০টি সনাতন ধর্মাবলম্বী পরিবারের বসবাস। মহল্লার শেষ প্রান্তে অবস্থিত তাদের প্রধান ধর্মীয় উপাসনালয় 'নরসিংহকাটি সার্বজনীন কালী মন্দির' এর অবস্থান।
দীর্ঘদিন ধরে মহল্লায় প্রবেশের একমাত্র রাস্তাটি কাঁচা থাকায় সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছিলো। রাস্তাটিতে কাদা-পানি জমে ছিলো। শুরু হতে যাওয়া দুর্গাপূজায় অংশ নিতে মন্দিরে যাওয়ার এই একমাত্র পথটি নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছিলেন মহল্লাবাসী।
তাদের এই কষ্ট লাঘবে স্বেচ্ছায় এগিয়ে আসেন রনি ইসলাম। পূজা উপলক্ষে ভক্ত ও দর্শনার্থীরা যাতে নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে মন্দিরে যাতায়াত করতে পারেন, সেজন্য তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে বালু, ঘ্যাস ও ইট এনে সম্পূর্ণ রাস্তাটি সংস্কার করে দেন।
এ বিষয়ে নরসিংহকাটি সর্বজনীন কালীমন্দিরের সভাপতি কনক বিশ্বাস ও স্থানীয় বাসিন্দা অভিমন্যু বিশ্বাস বলেন, ‘আমাদের মালোপাড়ার প্রবেশদ্বারের একমাত্র রাস্তাটি কাঁচা ও বেহাল অবস্থায় থাকায় দীর্ঘদিন ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। পূজার সময় চলে এলেও মন্দিরে পৌঁছানোর পথটি বিভিন্ন অংশে কাদায় পরিপূর্ণ ছিলো। রনি ইসলাম নিজ খরচে ইট ও ঘ্যাস দিয়ে রাস্তাটি সংস্কার করে আমাদের বড় দুশ্চিন্তা দূর করে দিয়েছেন। আমরা নির্বিঘ্নে উৎসব পালন করতে পারবো।’
ধর্মীয় উৎসবের প্রাক্কালে কোনো রাজনৈতিক বা ধর্মীয় বিভেদ না রেখে জনস্বার্থে তরুণ এই নেতার এমন সামাজিক ভূমিকা সর্বমহলে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে।
এ বিষয়ে মো. রনি ইসলাম বলেন, ‘এটি কোনো স্বার্থের জন্য নয়। আমি আমার সাধ্য অনুযায়ী এই ধরনের সামাজিক কর্মকাণ্ড অনেক আগে থেকেই করে আসছি। আমি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শের একজন সৈনিক হিসেবে সর্বক্ষণ মানুষ ও দেশের কল্যাণে কাজ করতে ভালোবাসি। এই ধরনের জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে ইনশাল্লাহ।’