যশোর, বাংলাদেশ || বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

সাতক্ষীরায় এডিসি রিপন বিশ্বাসকে অপসারণের দাবি

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

প্রকাশ : বুধবার, ২৮ অক্টোবর,২০২৬, ০৮:১৭ পিএম
আপডেট : বুধবার, ২৮ অক্টোবর,২০২৬, ০৮:৪১ পিএম
সাতক্ষীরায় এডিসি রিপন বিশ্বাসকে অপসারণের দাবি

সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) রিপন বিশ্বাসের বিরুদ্ধে জ্যেষ্ঠ এক আইনজীবীকে মারধর ও আইনজীবী সমিতির সদস্য সচিবকে কক্ষে আটকে রাখার অভিযোগ করা হচ্ছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে ও এডিসিকে অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সাতক্ষীরা জেলা শাখার নেতারা।

মানববন্ধন থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাকে অপসারণের আলটিমেটাম দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় লাগাতার কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন তারা।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল ১০টায় সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির শহীদ মিনারের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম সাতক্ষীরা জেলা ইউনিটের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আকবর আলী।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, গত ১ অক্টোবর জেনারেল সার্টিফিকেট আদালতে একটি মামলার (নম্বর ১৭৫/২৬) শুনানি চলাকালে ম্যাজিস্ট্রেটের কক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট আকরাম আলীর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এডিসি রিপন বিশ্বাস। একপর্যায়ে তার গলার টাই ধরে মারধর ও লাঞ্ছিত করা হয়।

বক্তারা আরও জানান, এই ঘটনার শান্তিপূর্ণ সমাধানের উদ্দেশ্যে গত ২৬ অক্টোবর সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে এডিসির আমন্ত্রণে তার কক্ষে যান আইনজীবী সমিতির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন। কিন্তু কথোপকথনের একপর্যায়ে তাকে প্রায় ৪৫ মিনিট কক্ষে আটকে রাখা হয়। এসব ঘটনার প্রতিবাদেই এই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।

মানববন্ধনে আইনজীবীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একজন আইনজীবীকে লাঞ্ছিত করা মানে দেশের ৮০ হাজার আইনজীবীকে অসম্মান করা। এডিসি রিপন বিশ্বাস এর আগে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালেও আইনজীবীদের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়েছিলেন। সে সময় তার আচরণের কারণে তিনবার আদালত বর্জনের ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া অ্যাডভোকেট আকবর আলীসহ অন্তত দশ আইনজীবী তার অসৌজন্যমূলক আচরণের শিকার হয়েছেন।

বক্তারা এডিসির রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়েও নানা অভিযোগ তোলেন।

এদিকে, নিজের অবরুদ্ধ হওয়ার ঘটনা প্রসঙ্গে অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন একটি অর্পিত সম্পত্তিসংক্রান্ত মামলার (নম্বর ৮০৯/২০১২) আইনি জটিলতার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ২০২৩ সালের এপ্রিলে ওই মামলার রায় ও ডিক্রি হলেও তিনি ২০২৫ সালের মে মাসে এতে আইনজীবী হিসেবে নিযুক্ত হন। অর্পিত সম্পত্তি আইনের নিয়ম অনুযায়ী রায় প্রকাশের ৪৫ দিনের মধ্যে আপিল করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু পূর্ববর্তী আইনজীবী অ্যাডভোকেট প্রবীর মণ্ডল দীর্ঘ দুই বছরেও আপিল করেননি। ফলে মামলাটি তামাদিজনিত আইনি জটিলতায় পড়ে। এই তামাদি দোষের কারণে পূর্ববর্তী আইনজীবীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে, উল্টো ২৬ অক্টোবর মানববন্ধনের ঘোষণা দেওয়ার পর নুরুল আমিনের বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে সাংবাদিকদের জানানো হয়, যা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

মানববন্ধনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মিজানুর রহমান পিন্টু, শফিকুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম খোকন, অ্যাডভোকেট হেলালুজ্জামান, জাহিদুর রহমানসহ জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্যরা।

বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এডিসি রিপন বিশ্বাসকে অপসারণ করা না হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদনসহ লাগাতার আন্দোলন কর্মসূচি পালন করা হবে। এ বিষয়ে তারা প্রধানমন্ত্রী, জনপ্রশাসন মন্ত্রী ও আইনমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

তবে তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে এডিসি রিপন কুমার বিশ্বাস জানান, আইনজীবীদের দাবি ও অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)