সুবর্ণভূমি ডেস্ক
পাচারের শিকার হয়ে দেশে ফিরে আসা ব্যক্তিদের (সারভাইভার) সামাজিক ও অর্থনৈতিক পুনর্বাসন এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে যশোরে চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দিনব্যাপী সমন্বয় সভা করেছে রাইটস যশোর।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে যশোর শহরের বাঁচতে শেখা কনফারেন্স রুমে সংস্থা পরিচালিত ‘আশ্বাস’ প্রকল্পের উদ্যোগে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের অর্থায়নে এবং উইনরক ইন্টারন্যাশনালের কারিগরি সহযোগিতায় প্রকল্পটি পরিচালিত হচ্ছে।
ফাতিমা আফরোজ রুমকির সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন ক্যাফে ডিলাইটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস আর আজাদ, আয়েশা আবেদ ফাউন্ডেশনের সেন্টার ম্যানেজার মুসা মিয়া, আরএফএলের প্রতিনিধি সাইফুল ইসলাম, টিটিসি যশোরের জব প্লেসমেন্ট অফিসার দেলোয়ার হোসেন, আফিল গ্রুপের অ্যাডমিন অ্যান্ড এইচআর অফিসার ইস্তার হোসেন, এফপিএবি যশোরের ডিস্ট্রিক্ট অফিসার আজিজুল ইসলাম, কুইন্স হসপিটালের সহকারী ম্যানেজার ইমরান হোসেন, উত্তরা প্রাইভেট হাসপাতালের ম্যানেজার আব্দুস সালাম এবং মদিনা রিম অ্যান্ড পার্টসের বিলাস কুমার পাল।
সভায় প্রকল্পের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, কার্যক্রম ও কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন সুপ্তি দিব্রা।
সভা আয়োজনের প্রেক্ষাপট, উদ্দেশ্য এবং চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তোলার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেন রাইটস যশোরের পরিচালক (প্রশিক্ষণ) এস এম আজহারুল ইসলাম।
বক্তারা বলেন, মানব পাচারের শিকার হয়ে দেশে ফিরে আসা ব্যক্তিদের সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে পুনর্বাসিত করতে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এ ক্ষেত্রে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ ও সহযোগিতা তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার পথ সহজ করতে পারে।
উন্মুক্ত আলোচনায় চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের চাহিদা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বিবেচনায় নিয়ে যোগ্যতা ও দক্ষতা অনুযায়ী মানব পাচারের শিকার হয়ে দেশে ফিরে আসা ব্যক্তিদের পাশাপাশি বেকার যুবক-যুবতীদের চাকরির সুযোগ সৃষ্টিতে সহযোগিতার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এ ধরনের উদ্যোগকে আরও কার্যকর ও গতিশীল করতে তারা পারস্পরিক যোগাযোগ ও নিয়মিত সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভা শেষে অংশগ্রহণকারীদের সম্মতিক্রমে ‘জব প্রোভাইডার অ্যাসোসিয়েশন’ নামে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এর মাধ্যমে চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ, চাকরির তথ্য আদান-প্রদান এবং সম্ভাব্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্পর্কে দ্রুত অবহিত হওয়া যাবে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন, এ উদ্যোগ মানব পাচারের শিকার হয়ে দেশে ফিরে আসা ব্যক্তিসহ বেকার যুবক-যুবতীদের যোগ্যতা ও দক্ষতা অনুযায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সভায় রাইটস যশোরের টেকনিক্যাল এক্সপার্ট (ওয়েজ-এমপ্লয়মেন্ট) বজলুর রহমান, মনিটরিং অফিসার প্রকাশ স্বর, ফিন্যান্স অফিসার মনোশীষ কুমার এবং প্রোগ্রাম অ্যাসোসিয়েট শ্যামল মল্লিক উপস্থিত ছিলেন।
প্রেস বিজ্ঞপ্তি