স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে যশোর শহরের আরএন রোডের একটি মার্কেটের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ভাড়া আদায় ও নতুন চুক্তিপত্র করার জন্য চাপ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বহুল আলোচিত সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে, যিনি এলাকায় ‘টিএসআই রফিক’ নামে পরিচিত।
মুন্না নামে এক স্থানীয় ব্যবসায়ীকে প্রতিনিধি বানিয়ে তিনি মার্কেটের ভাড়াটেদের ডেকে চুক্তি করার জন্য দুই দফা চাপ দিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এর প্রতিবাদে ওই মার্কেটের ১৮ জন ব্যবসায়ী মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে যশোর জেলা পুলিশ সুপারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।
পুলিশ সুপার ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন, আদালতের পরবর্তী নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত কাউকে কোনো ভাড়া বা নতুন চুক্তি করতে হবে না। এ নিয়ে কেউ কোনো ঝামেলা বা চাপ সৃষ্টি করলে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে জানানোর পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
ব্যবসায়ীরা জানান, আরএন রোডের হোমিওপ্যাথিক কলেজের পশ্চিম পাশে সাড়ে ১৩ শতক জমির ওপর অবস্থিত ওই মার্কেটের মালিক সাবেক টিএসআই রফিক ও তার স্ত্রী ঝরনা ইয়াসমিন। সেখানে ১৮ জন ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন ধরে দোকান ভাড়া নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছেন।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ২০ আগস্ট যশোরের সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত ওই সম্পত্তি ক্রোকের (অ্যাটাচমেন্ট) নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশনায় বলা হয়, এই ক্রোক করা সম্পত্তি কোনোভাবে হস্তান্তর, সংশ্লিষ্ট লেনদেন বা দায়মুক্ত করা যাবে না। আদালতের নোটিস জারির পর থেকে ব্যবসায়ীরা ভাড়া দেওয়া বন্ধ রাখেন।
ব্যবসায়ী শেখ মুকুল ও তরিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন, মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে কদমতলা এলাকার বাসিন্দা ও ভবনের তিনতলার ব্যবসায়ী মুন্না তাদের অফিসে ডেকে পাঠান।
তিনি রফিকের প্রতিনিধি দাবি করে নতুন চুক্তি করতে ও ভাড়া দিতে বলেন। অস্বীকৃতি জানালে তিনি ফোনে টিএসআই রফিকের সঙ্গে কথা বলিয়ে দেন। অপর প্রান্ত থেকে রফিকও মুন্নার সঙ্গে চুক্তি করার নির্দেশ দেন। বিকেলে আবারও ব্যবসায়ীদের ডেকে নতুন চুক্তি করার জন্য চাপ দেওয়া হয়।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে ব্যবসায়ী মুন্নার ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোনে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান।
পরে বিকেলে মার্কেটে গিয়ে তার সঙ্গে সরাসরি দেখা করা হলে তিনি নামাজের কথা বলে এড়িয়ে যান এবং পরবর্তীতে আর যোগাযোগ করেননি।
দুদক সমন্বিত যশোর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আল-আমীন বলেন, ‘সাবেক টিএসআই রফিকুল ইসলাম ও তার স্ত্রীর নামে থাকা সম্পত্তি আদালতের আদেশে ক্রোক করা হয়েছে। এসব সম্পত্তি দেখভালের জন্য রিসিভার (তত্ত্বাবধায়ক) নিয়োগ করা হয়েছে, যা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।’ সুতরাং এখানে রফিক বা তার কোনো প্রতিনিধির ভাড়া আদায়ের আইনি সুযোগ নেই।
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যশোর চাঁচড়া ও সদর ফাঁড়ির ইনচার্জ থাকাকালীন রফিকুল ইসলাম ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলেন। তার বিরুদ্ধে ভয়ভীতি দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া এবং জোরপূর্বক জমি ও বাড়ি দখলের একাধিক অভিযোগ রয়েছে।