যশোর, বাংলাদেশ || সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

যশোরে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেওয়ার চেষ্টা, আটক ৪১

স্টাফ রিপোর্টার

, যশোর

প্রকাশ : সোমবার, ২ নভেম্বর,২০২৬, ০৩:৩৩ পিএম
আপডেট : সোমবার, ২ নভেম্বর,২০২৬, ০৩:৫৭ পিএম
যশোরে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেওয়ার চেষ্টা, আটক ৪১

যশোর শহরের গরিব শাহ মাজারের সামনে বকুলতলায় জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেওয়া হয়েছে। রোববার (১ নভেম্বর) দিবাগত গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা স্মৃতিস্তম্ভের দক্ষিণ পাশে আগুন ধরিয়ে দেয়। ঘটনার দৃশ্য ভিডিও করে ফেসবুকে প্রচার করেছেন নিষিদ্ধঘোষিত যুবলীগের কয়েকজন নেতা।

ঘটনা জানার পর সোমবার (২ নভেম্বর) বেলা ১২টার দিকে যশোর জেলা পুলিশের একটি দল স্মৃতিস্তম্ভে গিয়ে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করে। আশপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে দুর্বৃত্তদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

এদিকে গত রোববার খুব সকালে যুবলীগের উদ্যোগে শহরের মাইকপট্টিতে সরকারবিরোধী মিছিল করার অভিযোগে কোতোয়ালি থানা এলাকা থেকে যুবলীগের ১৭ নেতা-কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে সাতজন সরাসরি মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন বলে পুলিশের ভাষ্য। সব মিলিয়ে জেলায় নাশকতার অভিযোগে ৪১ জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিরাজুল ইসলাম।

সরেজমিনে দেখা গেছে, স্মৃতিস্তম্ভের দক্ষিণ পাশে নিচ থেকে ছয়-সাত ফুট ওপর পর্যন্ত কালো দাগ রয়েছে। আগুন ধরানোর পর কে বা কারা দাগ মুছে ফেলার চেষ্টা করেছে। সকালে কোতোয়ালি থানা পুলিশ, ডিবি ও গোয়েন্দা পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত একটি দল স্মৃতিস্তম্ভ পরিদর্শন করে।

স্মৃতিস্তম্ভের আশপাশে স্থাপিত বিভিন্ন সিসি ক্যামেরার ফুটেজও সংগ্রহ করেছে পুলিশ। ফুটেজে দেখা যায়, গভীর রাতে তিন যুবক স্মৃতিস্তম্ভের সামনে যান। তাদের দুজন পেট্রল বা দাহ্য পদার্থ দিয়ে স্মৃতিস্তম্ভের নিচে আগুন ধরিয়ে দেন, আর একজন ভিডিও করেন।

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, যশোরের যুবলীগ নেতা আনোয়ার হোসেন বিপুল, পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর আলমগীর কবির সুমন, ছাত্রলীগের সদর উপজেলা শাখার সাবেক আহ্বায়ক রবিউল ইসলামসহ কয়েকজন তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে আগুন দেওয়ার দৃশ্য প্রচার করেছেন।

ফেসবুকে স্মৃতিস্তম্ভ সম্পূর্ণ পুড়িয়ে দেওয়ার কথা বলা হলেও তা মিথ্যা বলে দাবি করেছে সূত্রটি। সূত্র আরও জানায়, দুর্বৃত্তরা গোপনে আগুন লাগানোর চেষ্টা করেছে, তবে স্মৃতিস্তম্ভটি অক্ষত আছে। স্তম্ভের দক্ষিণ পাশে কালো চিহ্ন রয়েছে, যা দেখে বোঝা যায় সেখানে আগুন দেওয়া হয়েছিল।

এ বিষয়ে যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মিরাজুল ইসলাম বলেন, রোববার খুব সকালে যশোর শহরে ঝটিকা মিছিল হয়েছে। আর গভীর রাতে কে বা কারা স্মৃতিস্তম্ভে আগুন লাগানোর চেষ্টা করেছে। পুলিশ ঘটনাটি অনুসন্ধান করে দুর্বৃত্তদের আটকের চেষ্টা করছে।

তিনি আরও বলেন, যশোরের নয়টি থানার পুলিশ ও ডিবি পুলিশ নাশকতার অভিযোগে মোট ৪১ জনকে আটক করেছে। এর মধ্যে কোতোয়ালি থানা এলাকার ১৭ জন রয়েছেন, যাদের সাতজন সরাসরি মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন। এ ছাড়া চৌগাছা থানা পুলিশ দুজন, মণিরামপুর তিনজন, শার্শা দুজন, অভয়নগর চারজন, কেশবপুর তিনজন, বাঘারপাড়া চারজন, বেনাপোল পোর্ট থানা চারজন এবং ঝিকরগাছা থানা পুলিশ দুজনকে আটক করেছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরও জানান, জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে চলমান কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এদিকে সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেলে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের পাদদেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে প্রতিবাদ সভা হবে। স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেওয়ার চেষ্টার প্রতিবাদে এ সভার আয়োজন করা হচ্ছে।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)