যশোর, বাংলাদেশ || মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

খুলনায় এবার গুলির পর গলা কেটে দুইজনকে হত্যা

খুলনা অফিস

প্রকাশ : সোমবার, ২ নভেম্বর,২০২৬, ০৩:৫১ পিএম
আপডেট : সোমবার, ২ নভেম্বর,২০২৬, ১০:১৩ পিএম
খুলনায় এবার গুলির পর গলা কেটে দুইজনকে হত্যা

খুলনা মহানগরীতে ২০ ঘণ্টার মধ্যে দুটি হত্যাকাণ্ডের পর এবার রূপসা উপজেলার আঠারোবাঁকি নদী থেকে দুই যুবকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (০২ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার আইচগাতী ইউনিয়নের মোছাব্বরপুর গ্রামের (সিংহের চর এলাকা) একটি কলাবাগানের পাশ থেকে ভাসমান অবস্থায় মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়।

প্রথম আলোর খবরে পুলিশের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, নিহত দু’জনের শরীরেই গুলিবিদ্ধ হওয়ার চিহ্ন রয়েছে। অর্থাৎ তাদের গুলি করে পরে গলা কাটা হয়েছে।

নিহতরা হলেন—রূপসা উপজেলার রাজাপুর গ্রামের আব্দুল্লাহর ছেলে মেহেদী হাসান সোহাগ (৩৫) এবং সিংহের চর এলাকার রেজাউল করিম (৩০)।

নিহত সোহাগ জেলখানা ঘাটের মাঝি ছিলেন। পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সোহাগ স্থানীয় একটি সন্ত্রাসী গ্রুপের সদস্য ছিলেন। তবে কীভাবে ও কেন তাদের হত্যা করা হয়েছে, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

রূপসা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নুর আলম জানান, বেলা সাড়ে ১২টার দিকে স্থানীয় বাসিন্দারা নদীতে মরদেহ ভাসতে দেখে থানায় খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুপুর দেড়টার দিকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রথমে নদীর চরে কাদা-মাটির মধ্যে একটি মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। এর কিছুক্ষণ পর একই এলাকায় আরও একটি মরদেহ ভেসে ওঠে। মরদেহ দুটি নদীর চরে আটকে ছিল এবং সেগুলো থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল। উভয়ের মাথা ও গলায় রক্তাক্ত ক্ষতচিহ্ন দেখা গেছে। এই জোড়া লাশ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে নদীর দুই পাড়ে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে।

রূপসা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাসুম খান নদী থেকে দুইজনের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে পুলিশ কাজ শুরু করেছে।

এর আগে, গত দুই দিনে খুলনা মহানগরীতে আরও দুটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে রবিবার সন্ধ্যায় আড়ংঘাটা থানার রায়েরমহল এলাকায় নিজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের হামলায় সৈয়দ হুমায়ুন কবির নামে এক রাজনৈতিক নেতা নিহত হন। আর শনিবার রাতে নগরের দারোগাপাড়া এলাকায় শহিদুল (৩৫) নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

খুলনায় পরপর কয়েকটি হত্যাকাণ্ড ও রহস্যজনকভাবে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জনমনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এদিকে, প্রথম আলোর খবরে বলা হয়েছে, সবশেষ জোড়া খুনের ঘটনা নিয়ে গত ১২ দিনে খুলনা মহানগর ও জেলায় সাতটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে আছেন খুলনা মহানগর তাঁতিদলের এক নেতা। এ ছাড়া একই সময়ে পাঁচজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাদের মধ্যে আছেন যুবদলের বর্তমান ও সাবেক তিন নেতা।

সব মিলিয়ে চলতি বছরে এখন পর্যন্ত (১ নভেম্বর) খুলনা মহানগর ও জেলায় গুলি, ধারালো অস্ত্রের আঘাতসহ বিভিন্নভাবে ৭৫ জনকে হত্যা করা হয়েছে।

পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, খুলনার অপরাধজগতে আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী রনি চৌধুরী ওরফে গ্রেনেড বাবুর গড়া সন্ত্রাসী গ্রুপ ‘বি-কোম্পানি’র সক্রিয় সদস্য ছিলেন মেহেদী ও রেজাউল। দুজনের শরীরেই গুলির চিহ্ন রয়েছে।

রূপসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুম খান বলেন, মেহেদী ও রেজাউল দুজনকেই গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার পর মরদেহ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মেহেদী চোখের ওপর ভ্রুর পাশে গুলির চিহ্ন রয়েছে। আর রেজাউলের থুতনির নিচে ও পিঠে গুলির চিহ্ন রয়েছে। হত্যার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দুজনই সন্ত্রাসী বাহিনী ‘বি-কোম্পানি’র সক্রিয় সদস্য ছিলেন।

মেহেদীর মরদেহ নদীর চরে পড়ে থাকার খবর শুনে ঘটনাস্থলে আসেন তার বাবা আবদুল্লাহ। সেখানে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, মেহেদী আলাদা থাকতেন। ছেলের সঙ্গে তার তেমন যোগাযোগ ছিল না।

একের পর এক হত্যাকাণ্ড

এর আগে রোববার সন্ধ্যায় খুলনা নগরের আড়ংঘাটা থানার রায়েরমহল এলাকার একটি রেস্তোরাঁয় নিজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে খুন হন খুলনা মহানগর তাঁতিদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির। তাকে দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে হত্যা করে। আর শনিবার দিবাগত রাতে নগরের লবণচরা এলাকার সড়ক থেকে এক যুবকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য, দুর্বৃত্তরা তাকে কুপিয়ে হত্যার পর সড়কে মরদেহ ফেলে যায়।

২৬ অক্টোবর রাত থেকে ২৭ অক্টোবর বিকেল পর্যন্ত খুলনায় গুলির তিনটি ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে বটিয়াঘাটা উপজেলার পৃথক দুটি স্থানে গুলিতে আহত হন যুবদলের সাবেক দুই নেতা। আর খুলনা নগরে গুলিবিদ্ধ হন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী।

২৫ অক্টোবর নগরের সোনাডাঙ্গা থানা এলাকায় একজনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ২৪ অক্টোবর নগরের দক্ষিণ টুটপাড়া গাছতলা এলাকায় ধনঞ্জয় কুণ্ডু ওরফে আকাশ কুণ্ডু নামে এক কলেজশিক্ষককে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। একই দিন সকালে তেরখাদা উপজেলায় দুর্বৃত্তদের ছোড়া গুলিতে রামিম বিশ্বাস নামে যুবদলের এক নেতা আহত হন।

এ ছাড়া ২২ অক্টোবর সকালে নগরের পূর্ব বানিয়াখামার এলাকায় এক যুবককে গুলি করে হত্যা করা হয়। একই দিন সন্ধ্যার পর নগরের জিন্নাহপাড়া এলাকায় গুলি করে হত্যা করা হয় এক গৃহবধূকে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এসব হত্যাকাণ্ডের অধিকাংশের পেছনে অস্ত্র ও মাদক কারবার, চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ, পূর্বশত্রুতা এবং সন্ত্রাসীগোষ্ঠীগুলোর মধ্যে বিরোধের মতো কারণ রয়েছে।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)