মেহেরপুর প্রতিনিধি
জামায়াতে ইসলামীর সংবাদ সম্মেলনের তিন দিনের মাথায় মেহেরপুরে ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, অপহরণ ও নির্যাতনের অভিযোগে মামলা হয়েছে। মামলায় জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি নাহিদ মাহবুব সানি ও যুবদলের পাঁচ নেতাসহ ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে মেহেরপুরের আমলি আদালতে মামলাটি করেন চাঁদপুর গ্রামের ব্যবসায়ী তারিকুল ইসলাম (২৮)। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে জেলা গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন—যুবদল নেতা মিঠুন আলী, শাকিল, রবি, তারিক ও শফি।
আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩২৩, ৩২৪, ৩২৫, ৩২৬, ৩৬৭, ৩৬৮, ৩৮৫, ৫০৬(২) ও ১০৯ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, তিনি 'চাঁদপুর ট্রান্সপোর্ট' নামে সবজি লোডিংয়ের ব্যবসা করেন। আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে তার কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার সবজির ট্রাক আটকে দেওয়া হয়।
পরে বাধ্য হয়ে তিনি দুই দফায় ৩০ হাজার টাকা দেন। বাকি এক লাখ ৭০ হাজার টাকার জন্য তাকে বিভিন্ন সময় হুমকি দেওয়া হচ্ছিল।
মামলার বিবরণে আরও বলা হয়, গত ২৭ অক্টোবর দুপুরে মেহেরপুর শহরের বিএডিসি অফিসের সামনে থেকে আসামিরা অস্ত্রের মুখে তারিকুলকে জিম্মি করে একটি চায়ের দোকানে নিয়ে যান। সেখানে বাকি টাকা না পেয়ে লোহার রড ও পাইপ দিয়ে তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়।
প্রায় পাঁচ ঘণ্টা নির্যাতনের পর তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেললে আসামিরা তাকে ফেলে যান। পরে এক পথচারী উদ্ধার করে তাকে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এদিকে মামলা দায়েরের পর ছাত্রদলের একাংশের নেতারা এই মামলাকে সম্পূর্ণ 'মিথ্যা ও রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র' বলে দাবি করেছেন। তাদের দাবি, বাদী তারিকুল ইসলাম মূলত বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের একজন সক্রিয় কর্মী এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ছাত্রদল ও যুবদলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে এই সাজানো মামলা করা হয়েছে। অপরদিকে, ১ নভেম্বর কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মেহেরপুর জেলা ছাত্রদলের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।
এর আগে গত ৩০ অক্টোবর বিকেলে সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তোলে মেহেরপুর জেলা জামায়াত। এর তিন দিনের মাথায় আদালতে এই মামলা জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।