স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
যশোরের ঝিকরগাছা থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আশরাফুল আলমের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবি, টাকা ছিনিয়ে নেওয়া ও মারধরের অভিযোগে আদালতে মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) যশোরের ঝিকরগাছা আমলি আদালতে মামলাটি দায়ের করেন ঝিকরগাছা শহরের কৃষ্ণনগর এলাকার মৃত মোজাফফার সরদারের ছেলে আসাদুজ্জামান।
আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাকিব আহমেদ ইমন অভিযোগটি আমলে নিয়ে বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য পুলিশ সুপারকে (ক্রাইম) নির্দেশ দিয়েছেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবদুল্লাহ।
মামলার আরজিতে বাদী উল্লেখ করেন, গত ২৩ অক্টোবর রাত সাড়ে ৩টার দিকে এএসআই আশরাফুল আলম অজ্ঞাত কয়েক ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে আসাদুজ্জামানের বাড়িতে অভিযান চালান। সেখানে তার সেজো ভাই রেজাউল করিমকে খুঁজে না পেয়ে ওই পুলিশ কর্মকর্তা আসাদুজ্জামানের কাছে দশ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। দাবি করা টাকা না দিলে তার ভাইকে মাদক মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
এর পরদিন ২৪ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ভাই রেজাউল করিমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন থেকে আসাদুজ্জামানের কাছে একটি কল আসে। এর মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, তার ভাইকে ঝিকরগাছা থানা-পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। পরবর্তীতে ভাইয়ের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল, মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ ফেরত নিতে আসাদুজ্জামান থানায় যান।
অভিযোগে আরও বলা হয়, আসাদুজ্জামান থানায় পৌঁছালে ডিউটি অফিসারের কক্ষের সামনে থেকে এএসআই আশরাফুল আলম তাকে হাজতখানার সামনে নিয়ে যান। সেখানে আসাদুজ্জামানের পকেট থেকে জোরপূর্বক নগদ আড়াই হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং মোটরসাইকেল ও মোবাইল ফোন ছাড়ানোর জন্য আরও ৪/৫ হাজার টাকা দাবি করা হয়। এ সময় ভাইয়ের মানিব্যাগটি ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানান ওই পুলিশ কর্মকর্তা। পরে থানা থেকে বের হওয়ার সময় মানিব্যাগটি নিচে পড়ে গেলে আসাদুজ্জামান সেটি তুলতে যান। তখন এএসআই আশরাফুল আলম তাকে সজোরে থাপ্পড় মারেন এবং থানা থেকে তাড়িয়ে দেন।
মামলার আরজিতে বাদী দাবি করেছেন, থানার ভেতর ঘটে যাওয়া এই পুরো ঘটনাটি সেখানকার সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ করা রয়েছে। ঘটনার পর বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে অবশেষে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।