সুবর্ণভূমি
ইরানের তেহরানের জুমার খুতবার ইঙ্গিত ও জনসাধারণের দাবির প্রেক্ষিতে দেশটি পরমাণু অস্ত্র তৈরির পথে হাঁটতে পারে—এমন আশঙ্কার ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষণ করেছেন কলামিস্ট সিরাজুল ইসলাম। তার ফেসবুকে পোস্ট করা বিশ্লেষণধর্মী লেখাটি তুলে ধরা হলো:
মনে হয় ইরানের পক্ষ থেকে বড় ঘোষণা আসছে। বড় ঘোষণা মানে আসল ঘোষণা। বুঝতে পেরেছেন আসল ঘোষণা মানে কি?? মানে পরমাণু অ*স্ত্র সম্পর্কে বিশেষ ঘোষণা আসতে পারে। এমন ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে তেহরানের জুমার নামাজের খুতবায়। এই ইঙ্গিত আজকেই দিয়েছেন জুমার খতিব হুজ্জাতুল ইসলাম হাজ আলী আকবারি। তিনি ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির বিশেষ ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি। সেই সূত্রে বর্তমান নেতা আয়াতুল্লা মুজতবা খামেনিরও বিশেষ ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি বলে মনে করা হয়। তো জুমার নামাজের খতিবের পক্ষ থেকে এই ইঙ্গিত মানেই হচ্ছে সর্বোচ্চ নেতার পক্ষ থেকে দেয়া গ্রিন সিগন্যাল। আর সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনি যদি গ্রিন সিগনাল দিয়ে থাকেন তাহলে সেটা জনগণের চাপের মুখেই দিয়েছেন। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে- ইরানের শতকরা ৭০ ভাগের বেশি মানুষ ওই জিনিস চায়। জনগণের যখন প্রত্যাশা তখন সর্বোচ্চ নেতার পক্ষ থেকে হয়তো তা উপেক্ষা করা সম্ভব না। ইরান এতদিন পরমাণু শক্তিকে এই সমস্ত সামরিকভাবে ব্যবহার করার বিরোধিতা করে এসেছে। কিন্তু লাভটা কি হয়েছে? তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা এসেছে, অবরোধ এসেছে, হুমকি এসেছে, হামলা এসেছে। একবার নয়, কয়েকবার। স্বাভাবিকভাবেই এক ধরনের রাগ ক্ষোভ জিদ অভিমান কাজ করতে পারে- না বানিয়েই যদি হামলার মুখে পড়তে হয়, তাহলে বানিয়েই ফেলি। হয়তো সেই জায়গা থেকে আজকে ইরান ভিন্ন পথ ধরলো, এবার হয়তো ইতিহাস খানিকটা বদলাতে পারে।