স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
ঢাকায় পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনে হামলা ও পুলিশি নির্যাতন বন্ধ এবং পোশাকসহ সব খাতের শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে যশোরে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে প্রেসক্লাব যশোরের সামনে বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগ যশোর জেলা কমিটির উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যতম নেতা ও যশোর জেলা সম্পাদক তসলিম উর রহমানের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা নেতা সাবিনা বেগম দীপ্তি, পলাশ বিশ্বাস, শহর কমিটির নেতা দয়ানন্দ হালদার এবং শ্রমিক ফেডারেশন নেতা আসাদুজ্জামান পিন্টু।
বক্তারা বলেন, ঢাকায় শ্রমিকদের ন্যায্য ও যৌক্তিক দাবির আন্দোলন দমনে রাষ্ট্রের পেটোয়া বাহিনীকে ব্যবহার করা হচ্ছে।
পুলিশ নির্বিচারে শ্রমিকদের ওপর হামলা ও নির্যাতন চালাচ্ছে।
অন্যদিকে, তসলিমা আক্তারের মতো কতিপয় তথাকথিত শ্রমিকনেতা শ্রমিকদের স্বার্থের বিরুদ্ধে দালালির ভূমিকা পালন করছেন।
নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রসঙ্গ তুলে বক্তারা বলেন, বাজারে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বাড়িভাড়া এবং বিদ্যুৎ ও গ্যাসের বিল বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।
দিনরাত হাড়ভাঙা পরিশ্রম করেও ঢাকার মতো ব্যয়বহুল শহরে শ্রমিকদের টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে।
মাত্র ১২ হাজার ৫০০ টাকা মজুরিতে এই অগ্নিমূল্যের বাজারে পরিবার-পরিজন নিয়ে জীবনযাপন করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।
ক্ষমতাসীনদের ভূমিকার সমালোচনা করে নেতৃবৃন্দ বলেন, অতীতেও ক্ষমতাসীনরা জনগণের ন্যায্য দাবি মেনে না নিয়ে ষড়যন্ত্রের অজুহাতে আন্দোলনকারীদের দমনে পুলিশ বাহিনীকে ব্যবহার করেছে।
বর্তমান সরকারের অবস্থানও একই। তারা সব সময় পুঁজিপতি ও কারখানার মালিকদের স্বার্থ রক্ষা করছে। পোশাক কারখানা ও মালিকদের মুনাফা ক্রমাগত বাড়লেও শ্রমিকদের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না।
সমাবেশ থেকে শ্রমিকদের ওপর পুলিশি নির্যাতন অবিলম্বে বন্ধ, নির্যাতনের সঙ্গে জড়িতদের জবাবদিহি নিশ্চিত এবং দ্রুত পোশাকসহ সব খাতের শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মজুরি বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়।
সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।