স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
যশোর, খুলনা, কক্সবাজারসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে শুক্রবার সন্ধ্যায় আকাশে আলোর দীর্ঘ রেখা দেখা গেছে। ভারতের দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণের কারণে এই আলো দেখা গেছে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আকাশ চিরে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাওয়া ওই আলোকচ্ছটা দেখতে পান যশোর শহরের অনেকেই। তাদের অনেকেই মোবাইল ফোনে দৃশ্যটি ধারণ করেন। তবে কোথা থেকে কীভাবে এই আলো এলো তা কেউ নিশ্চিত হতে পারছিলেন না।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, আকাশে দেখতে পাওয়া আলোর রেখাটি অনেকটা ক্ষেপণাস্ত্র বা রকেট উৎক্ষেপণের মতো ছিল। সন্ধ্যার পরপরই শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এ দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেন।
ওই সময় যশোর জেনারেল হাসপাতালে থাকা হাসান মাস্টার নামে এক ব্যক্তি বলেন, ‘হঠাৎ করে এমন দৃশ্য দেখে প্রথমে ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। দেখতে অনেকটা ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের সময় টেলিভিশনে দেখা মিসাইলের মতো লাগছিল। জীবনে প্রথমবার এমন আলোর রেখা দেখলাম।’
পরিবার নিয়ে ভৈরব নদের পাড়ে ঘুরতে আসা মফিজ উদ্দিন বলেন, ‘পার্কে ঘুরতে এসে এমন দৃশ্য দেখবো, ভাবতেই পারিনি। সবাই মিলে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে সেটি দেখেছি। ভয়ের পাশাপাশি এক ধরনের বিস্ময়ও কাজ করছিল।’
রহস্যময় ওই আলোর উৎস সম্পর্কে জানতে চাইলে যশোর মতিউর রহমান বিমানঘাঁটির আবহাওয়া দপ্তর থেকে বলা হয়, বিষয়টি সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে বঙ্গোপসাগরে ভারতের সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে দেশটি ৬ থেকে ৯ মে পর্যন্ত নির্দিষ্ট আকাশসীমায় 'নোটিস টু এয়ারম্যান’ বা নোটাম জারি করেছে বলে বিভিন্ন ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়েছে।
খবরে বলা হয়, ওড়িশার আবদুল কালাম দ্বীপ থেকে আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র 'অগ্নি-৬'-এর পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এ বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
তবে যশোরের আকাশে দেখা যাওয়া আলোর রেখাটি ভারতের সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার সঙ্গে সম্পর্কিত কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, আমার দেশ অনলাইনের একটি খবরে বলা হয়, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের পশ্চিম আকাশে রহস্যময় দীর্ঘ আলোর রেখা দেখা যাওয়ায় সাধারণ মানুষ ও পর্যটকদের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। তবে নিশ্চিত হওয়া গেছে, এটি ভারতের পরীক্ষামূলকভাবে উৎক্ষেপণ করা একটি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের (ICBM) দৃশ্য হতে পারে।
শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে কক্সবাজার সৈকতের লাবণী ও সুগন্ধা পয়েন্ট এলাকায় এই বিরল আলোর রেখা দেখা যায়। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে আকাশে দীর্ঘ আলোর মতো একটি রেখা স্পষ্ট হয়ে উঠলে সেখানে উপস্থিত পর্যটক ও স্থানীয়রা অবাক হয়ে যান।
তবে কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের এক আবহাওয়াবিদ জানান, এটি কোনো আবহাওয়াজনিত প্রাকৃতিক ঘটনা নয়।
বিমানবাহিনীর গোয়েন্দা সূত্র দাবি করেছে, ভারত পূর্বেই বঙ্গোপসাগরে তাদের সম্ভাব্য আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘অগ্নি-৬’ পরীক্ষার প্রস্তুতির বিষয়ে জানিয়ে রেখেছিল। সেই অনুযায়ী, ৪ থেকে ৯ মে পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরের আকাশসীমায় বিশেষ বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।
তবে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইকোনোমিক টাইমস–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই পরীক্ষার জন্য ‘নোটাম’ (Notice to Airmen) জারি করা হয়েছিল। এতে ওড়িশার ড. এ পি জে আবদুল কালাম দ্বীপ থেকে প্রায় সাড়ে তিন হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত আকাশসীমায় বিধিনিষেধ ছিল বলে উল্লেখ করা হয়।
এই দ্বীপ থেকেই ভারত নিয়মিতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়ে থাকে।