শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার পদ্মপুকুর ইউনিয়নের পাতাখালী-চণ্ডিপুর এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্মিত বেড়িবাঁধ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, রাতের আঁধারে বাঁধে ব্যবহৃত জিআই বস্তা কেটে নিয়ে যাচ্ছে একটি চক্র। এতে ঝুঁকিতে পড়েছে সাতক্ষীরা-২ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ১৫ নম্বর পোল্ডারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আগের দুটি বাঁধ নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার পর সম্প্রতি বিকল্প সুরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। ভাঙন ঠেকাতে নিচের অংশে জিআই বস্তায় বালু ভরে স্তূপ তৈরি করা হয়। পরে তার ওপর আরও বস্তা বসিয়ে বাঁধটি মজবুত করা হয়। তবে, পুরো কাঠামোর বড় একটি অংশই বালুভর্তি বস্তার ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এখন তা আবারও হুমকির মুখে পড়েছে।
শুক্রবার (২২ মে) সরেজমিনে দেখা যায়, বাঁধের কয়েকটি অংশ থেকে বস্তা সরিয়ে নেওয়ার চিহ্ন রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু ব্যক্তি ও ঘের ব্যবসায়ী গভীর রাতে বাঁধের বস্তা কেটে নিজেদের মাছের ঘেরের বেড়িতে ব্যবহার করছেন।
পাতাখালী এলাকার বাসিন্দা বায়োজিদ হোসেন বলেন, যারা বেড়িবাঁধের বস্তা কেটে নিয়ে যাচ্ছে, প্রশাসনের উচিত তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া। এভাবে চলতে থাকলে বর্ষায় পুরো এলাকা হুমকিতে পড়বে।
স্থানীয় বাসিন্দা কামরুজ্জামান, আশরাফ হোসেন, মুকুল, রাকিবুল ও আলমসহ কয়েকজনের মাছের ঘেরের ভেতরের বাঁধে জিআই বস্তা ব্যবহার করতে দেখা যায়। তবে এসব বস্তা কোথা থেকে আনা হয়েছে, সে বিষয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্টদের কেউই মুখ খুলছে না।
এলাকাবাসীর আশঙ্কা, বর্ষা মৌসুমে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেলে দুর্বল হয়ে পড়া এই বাঁধ যেকোনো সময় ভেঙে যেতে পারে। এতে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি জনদুর্ভোগ বাড়বে।
পদ্মপুকুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রেজাউল করিম বলেন, যারা এই কাজ করছে তারা খুবই খারাপ করছে। নিজের ক্ষতি নিজেরা না বুঝলে আমরা বলে আর কী করবো।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিষয়টি স্থানীয় সরকারের লোকজন কে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বর্ষা শুরুর আগেই বাঁধ রক্ষায় নজরদারি বৃদ্ধি ও জরুরি সংস্কারকাজ শুরুর দাবি জানিয়েছেন তারা।
পদ্মাপুকুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আমজাদুল ইসলামকে ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।