বাগেরহাট প্রতিনিধি
ঈদের সকালে যেখানে চারদিকে আনন্দের আমেজ, সেখানে টানাপড়েনের সংসারে এক টুকরো মাংসের জোগান দেওয়াটাই ছিল তাদের জন্য বড় দুশ্চিন্তা। সেইসব অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষের ঘরে কোরবানির আনন্দ পৌঁছে দিতে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে মানবিক সংগঠন 'নাহিয়ান ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন'।
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে শুক্রবার দুপুরে গণপূর্ত অধিদপ্তরের মাঠে সংগঠনটির উদ্যোগে প্রায় ৩০০ পরিবারের মাঝে ৫০০ গ্রাম করে কোরবানির গরুর মাংস বিতরণ করা হয়। কেবল এই মাঠেই নয়, জেলার বিভিন্ন প্রান্তেও এই মানবিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংগঠনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
সরেজমিনে দেখা যায়, মাংস পেয়ে সুবিধাভোগীদের চোখে-মুখে এক বুক স্বস্তি ও আনন্দের ঝিলিক। সামর্থ্য না থাকায় এবার যারা কোরবানি দিতে পারেননি, এই উপহার তাদের ঈদের অপূর্ণতাকে অনেকটাই পূর্ণ করেছে।
লাইনে দাঁড়িয়ে মাংস নেওয়া এক মধ্যবয়সী নারী আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, সংসারের টানাটানির কারণে কোরবানি দেওয়ার কপাল হয়নি। সন্তানদের মুখে ঈদের দিন একটু মাংস তুলে দিতে পারব কি না, তা নিয়ে চিন্তায় ছিলাম। এই মাংস পেয়ে খুব উপকার হলো, বাচ্চারা খুশি হবে।
কাছেই দাঁড়িয়ে থাকা এক বৃদ্ধ বলেন, সকাল থেকে কয়েক জায়গায় গিয়েও ভিড়ের কারণে কিছু পাইনি। এখানে এসে কোনো রকম হয়রানি ছাড়াই সম্মানের সঙ্গে মাংস পেলাম। আল্লাহ এই তরুণদের ভালো করুক।
মাংস বিতরণ কার্যক্রমে উপস্থিত থেকে তদারকি করেন নাহিয়ান ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক হাবিবা খান, জারিফুর জামান ও শেখ আল মামুনসহ সংগঠনের একঝাঁক উদ্যমী স্বেচ্ছাসেবক।
উদ্যোগটি সম্পর্কে ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক হাবিবা খান বলেন, সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও অসহায় মানুষের মুখে এক চিলতে হাসি ফোটানোই আমাদের মূল লক্ষ্য। কোরবানির আনন্দ যেন শুধু বিত্তবানদের মাঝে সীমাবদ্ধ না থেকে সবার মাঝে ছড়িয়ে পড়ে, সেই চিন্তা থেকেই আমরা প্রতি বছর এই আয়োজন করি।
তিনি সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আরও বলেন, মানুষ তো মানুষের জন্যই। সবাই যদি নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসেন, তবে সমাজে কোনো মানুষই ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত থাকবে না।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নাহিয়ান ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন কেবল ঈদেই নয়, বছরের বিভিন্ন সময়ে নানা সামাজিক ও মানবিক কাজের মাধ্যমে মানুষের পাশে দাঁড়ায়। এবারও সুশৃঙ্খলভাবে প্রকৃত অভাবী মানুষের হাতে মাংস পৌঁছে দিয়ে তারা সমাজে সহমর্মিতা ও মানবতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করল।