পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি
খুলনার পাইকগাছায় যৌতুকের দাবিতে এক গৃহবধূকে মারধর করে দুই বছরের শিশু কন্যাসহ বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
রোববার (৫ জুলাই) সকাল ৭টার দিকে উপজেলার লতা ইউনিয়নের হাঁড়িয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহত গৃহবধূ অর্পিতা রায় বর্তমানে পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় দশ বছর আগে বটিয়াঘাটা উপজেলার প্রভাষ ভদ্রের মেয়ে অর্পিতা রায়ের সাথে পাইকগাছা উপজেলার লতা ইউনিয়নের হাঁড়িয়া গ্রামের মহাদেব রায়ের ছেলে গৌরহরি রায়ের বিয়ে হয়। বর্তমানে তাদের সংসারে আট বছরের এক ছেলে ও দুই বছরের এক মেয়ে রয়েছে।
অর্পিতা রায়ের অভিযোগ, বিয়ের পর কয়েক বছর সংসার স্বাভাবিকভাবে চললেও দুই বছর আগে তিনি দ্বিতীয় সন্তানসম্ভবা থাকাকালে তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করে। এমনকি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা এবং ওষুধের ব্যবস্থাও ঠিকমতো করেনি। কন্যাসন্তান জন্মের পর নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে যায়।
ভুক্তভোগীর দাবি, একই গ্রামের দুই নারীর সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্ক রয়েছে স্বামী গৌরহরি রায়ের। পাশাপাশি বাবার বাড়ি থেকে যৌতুক এনে দেওয়ার জন্যও তাকে নিয়মিত চাপ দেওয়া হতো। এসব বিষয় নিয়েই দীর্ঘদিন ধরে তাকে নির্যাতন করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, রোববার সকালে রান্না সময়মতো না হওয়ার ‘অজুহাতে’ গৌরহরি রায় তাকে মারধর করে এবং দুই বছরের শিশু কন্যাসহ তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়।
পরে স্থানীয়রা অর্পিতার মামা লতা ইউনিয়নের বাইনচাপড়া গ্রামের চঞ্চল সরকারকে বিষয়টি জানান। এসময় চঞ্চল সরকার তাকে উদ্ধার করে পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত স্বামী গৌরহরি রায় যৌতুক ও পরকীয়ার কথা অস্বীকার করে স্ত্রীকে মারধর করার ঠিক বলে জানিয়েছেন।