নড়াইল প্রতিনিধি
নড়াইল জেলা কারাগারে হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত নারী কয়েদি লাইচ বেগম ওরফে লাইচনা (৫০) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। রোববার (৫ জুলাই) বিকেলে কারাগারের জেলার সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মৃত লাইচ বেগম লোহাগড়া উপজেলার চর দিঘলিয়া গ্রামের বাহার উদ্দিনের স্ত্রী। তিনি হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন (৩০ বছর) সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি ছিলেন। জেলা কারাগারে তার মহিলা কয়েদি বন্দী নম্বর -৭১৯০/এ।
শরীরের নানা ধরনের জটিলতা নিয়ে গত মাসে লাইচ বেগম ওরফে লাইচনা কারাগারেই অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে খুলনা মেডিকেলে কলেজ হাসপাতালে পাঠায় কারা কর্তৃপক্ষ। এরপর রোববার দুপুরে লাইচ কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়েন। দ্রুত তাকে জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক ডা. আলোক কুমার বাগচী মৃত ঘোষণা করেন।
নড়াইল জেলা কারাগারের জেলার সাইফুল ইসলাম বলেন, `কয়েদি লাইচ বেগম উচ্চ রক্তচাপ, হার্টের সমস্যাসহ নানাবিধ রোগে আক্রান্ত ছিলেন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে তার ওষুধ চলছিলো। রোববার দুপুরে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সুরতহাল রিপোর্ট, ময়নাতদন্তসহ আইনগত প্রক্রিয়া শেষে লাইচের মরদেহ তার পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হবে।'
২০১১ সালের ২৪ এপ্রিল জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে লোহাগড়া উপজেলার চরদিঘলিয়া গ্রামের মুসা খন্দকার নামে এক ব্যক্তি প্রতিপক্ষের হামলায় খুন হন। নিহতের ভাই বাদী হয়ে লোহাগড়া থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। শুনানির পর গত বছরের ১৪ মে নড়াইলের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক এলিনা আক্তার ওই মামলায় লাইচ বেগম ওরফে লাইচনা, তার দেবর আকরাম মোল্যা ও জাফর খন্দকারসহ তিনজনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেন। রায় ঘোষণার পর থেকে লাইচ বেগম ওরফে লাইচনা নড়াইল জেলা কারাগারে সাজা ভোগ করছিলেন।