এম জালাল উদ্দীন, পাইকগাছা প্রতিনিধি
খুলনার পাইকগাছা পৌরসভার চলমান সিটিসিআরপি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় একটি সড়ক নির্মাণে ড্রেনেজ ব্যবস্থা না রাখার অভিযোগ উঠেছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে আশপাশের বাড়িঘরে পানি ঢুকে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ পরিস্থিতিতে সড়ক নির্মাণকাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রেখে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
জানা যায়, পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মোক্তারের বাড়ি থেকে বাবলুর বাড়ি পর্যন্ত সিটিসিআরপি উন্নয়ন প্রকল্পের সড়ক নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। বর্তমানে সড়কের পাশে সাইড ওয়াল নির্মাণ শেষে বালি ভরাটের কাজ চলছে। তবে প্রকল্পে কার্যকর কোনো ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণে সড়কের দুই পাশের বাড়িঘর ও নিচু এলাকাগুলোতে ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে আশপাশের বাড়ির আঙিনা ও ঘরের ভেতরে পানি ঢুকে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরীর কাছে একটি লিখিত আবেদন দিয়েছেন। আবেদনে সড়ক নির্মাণকাজ আপাতত বন্ধ রেখে দ্রুত ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, জমে থাকা পানির কারণে অনেক পরিবার স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারছে না। রান্নাবান্না, যাতায়াতসহ দৈনন্দিন সব কাজ ব্যাহত হচ্ছে। দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকায় এলাকায় স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা রিজিয়া বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বাড়ির ভেতরে পানি জমে থাকায় গত দুই দিন ধরে ঠিকমতো রান্না করতে পারিনি। ছোট ছোট সন্তানদের নিয়ে খুব কষ্টে আছি। পানির কারণে ঘরে সাপ-পোকামাকড় ঢুকে পড়ছে। রাতে আতঙ্ক নিয়ে ঘুমাতে হচ্ছে। আমরা দ্রুত এই সমস্যার সমাধান চাই।
আরেক বাসিন্দা আলেক আলী বলেন, ড্রেনেজ ব্যবস্থা ছাড়া রাস্তা নির্মাণ করায় আমরা চরম দুর্ভোগে পড়েছি। চারদিকে পানি জমে পচে যাচ্ছে। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করে আমাদের দুর্ভোগ লাঘবে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি। এছাড়া স্থানীয় বাসিন্দা মঞ্জু, ফাইমা, আনুসহ আরও অনেকে এ বিষয়ে পৌর প্রশাসকের কাছে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী বলেন, সিটিসিআরপি প্রকল্পের আওতায় পৌর এলাকার অধিকাংশ স্থানে ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য সম্প্রতি পৃথক একটি প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে। ইতোমধ্যে ওই প্রকল্পের টেন্ডারও আহ্বান করা হয়েছে। কাজ সম্পন্ন হলে পৌর এলাকার অধিকাংশ স্থান ড্রেনেজ ব্যবস্থার আওতায় চলে আসবে এবং জলাবদ্ধতার সমস্যা অনেকাংশে দূর হবে।
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, ড্রেনেজ প্রকল্প পুরোপুরি বাস্তবায়ন হতে সময় লাগবে। তাই সেটি সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত চলমান সড়ক নির্মাণকাজে জরুরি ভিত্তিতে অস্থায়ী পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা না হলে চলতি বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ আরও চরমে পৌঁছাবে। এ কারণে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জোরালো হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।