ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
ঝিনাইদহ শহরের প্রবেশমুখে কেন্দ্রীয় বাসটার্মিনাল এলাকায় নির্মিত ‘বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান চত্বর’ অপসারণের কাজ চলছে। গত দুই দিন ধরে শ্রমিকরা চত্বরটি ভাঙছেন। তবে কোন সংস্থার নির্দেশে এবং কী কারণে এটি অপসারণ করা হচ্ছে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কেউই স্পষ্ট তথ্য দিতে পারেননি।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সরেজমিনে দেখা যায়, ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়কের সংযোগস্থলে অবস্থিত চত্বরটি ভাঙার কাজ চলছে। স্থানীয়রা চত্বরটি সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তের কারণ জানতে না পারায় বিস্ময় প্রকাশ করেন।
বাসচালক লিয়াকত আলী বলেন, চত্বরটির কারণে সড়কের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তের যানবাহন দেখা কঠিন হওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হতো। তবে তিনি বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের স্মৃতির প্রতি সম্মান রেখে অন্য উপযুক্ত স্থানে প্রতিকৃতি স্থাপনের দাবি জানান।
বীর মুক্তিযোদ্ধা সিদ্দিকুর রহমান বলেন, জেলার প্রবেশমুখে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের নামে একটি চত্বর থাকলে নতুন প্রজন্ম তার সম্পর্কে জানতে পারতো।
ঝিনাইদহ পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদ আলী খান বলেন, কেন চত্বরটি ভাঙা হচ্ছে তা তার জানা নেই।
জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন বলেন, এটি বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য—তা তার জানা ছিল না।
তিনি বলেন, জেলা প্রশাসন ভাঙার সঙ্গে জড়িত নয়। অনেক আগেই এটি স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত হয়েছিল, যা সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং পৌরসভা বাস্তবায়ন করছে বলে তিনি ধারণা করছেন। একই সঙ্গে নতুন করে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের একটি প্রতিকৃতি নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
তবে সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হাফিজুর রহমান বলেন, কারা চত্বরটি অপসারণ করছে তা তার জানা নেই।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালে প্রায় ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩০ ফুট উচ্চতা ও ১০ ফুট প্রস্থের ‘বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান চত্বর’ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় ভাস্কর্যটি অসম্পূর্ণ অবস্থায় দীর্ঘদিন অবহেলায় পড়ে ছিল।
এদিকে, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাতিজা হাফিজুর রহমান বলেন, ভাস্কর্য নির্মাণের সময় তাদের পরিবারকে সম্পৃক্ত করা হলেও অপসারণের আগে কেউ কোনো ধরনের যোগাযোগ করেনি।
প্রয়োজনে স্থানান্তর করা যেত, কিন্তু পরিবারকে না জানিয়ে এভাবে অপসারণ করা বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের প্রতি অসম্মান এবং পরিবারের সদস্যদের অবমাননার শামিল উল্লেখ করে তিনি এ ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।