কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি
ঝিনাইদহের বরুণ কুমার ঘোষ হত্যা মামলার বিচারপ্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করা, সাক্ষীকে হুমকি, সম্পদ দখলের অভিযোগ করা হচ্ছে নিহতের বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে।
বরুণের স্ত্রী টুম্পা রানী ঘোষের অভিযোগ, ভাসুর অরুণ কুমার ঘোষ ও তার সহযোগীরা মামলার আসামিদের সঙ্গে যোগসাজস করে হত্যাকাণ্ডকে ভিন্নখাতে নেওয়ার চক্রান্ত করছেন। এছাড়া, বরুণের কয়েক কোটি টাকার সম্পদ দখলের চেষ্টা চালাচ্ছেন বলেও তিনি অভিযোগ উত্থাপন করেছেন।
বুধবার বিকেলে ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন টুম্পা রানী ঘোষ।
টুম্পা রানী জানান, ২০২৪ সালের ৯ জানুয়ারি তার স্বামী বরুণ কুমার ঘোষ নির্মমভাবে খুন হন। এ সংক্রান্ত মামলায় গত ২২ জুন আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য ছিল। ওইদিন তিনি ঢাকা হাইকোর্ট থেকে দু’জন আইনজীবী নিয়ে সাক্ষ্য দিতে আদালতে যান। তখন ভাসুর অরুণ কুমার ঘোষ, সহযোগী তনুপ ঘোষসহ কয়েকজন তাকে ও তার ভাইকে জজ কোর্টের অভ্যন্তরেই প্রাণনাশের হুমকি দেন। সেকারণে তিনি সেদিন আদালতে সাক্ষ্য দিতে পারেননি।
তার দাবি, বিচারালয়ের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করলেই এই ঘটনার সত্যতা পাওয়া যাবে।
তিনি বলেন, বরুণ হত্যার পর ছয় মাস পার হতে না হতেই ভাসুর আমার নামে মিথ্যা দেওয়ানি মামলা ঠুকে দেন। সেখানে বলা হয়- আমি জমি বিক্রি করে দিচ্ছি। কিন্তু বাস্তবতা হলো- আমার ভাসুর নিজেই ১৬টি দলিলের মাধ্যমে বরুণের ১৪৩ দশমিক ৫০ একর জমি বিক্রি করে দিয়েছেন। আইনজীবীদের চেম্বারে বসে হত্যা মামলার আসামিদের সঙ্গে গোপনে বৈঠক করেন।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, আসামিদের সাথে তার (ভাসুরের) কিসের বৈঠক? কেন আমাকে সাক্ষ্য দিতে বাধা দেওয়া হচ্ছে? এসব কারণে এখন আমার প্রবল সন্দেহ, আমার স্বামী বরুণ হত্যার পেছনে খোদ তার ভাই অরুণ ঘোষের সরাসরি হাত বা সম্পৃক্ততা রয়েছে।
রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহারের বিষয়ে টুম্পা বলেন, ‘অরুণ কুমার ঘোষ দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের প্রার্থীর হয়ে নির্বাচনি কাজ করেছেন এবং দলের অর্থ যোগানদাতা। অথচ, ২০২৪ সালের আগস্ট পরবর্তী সময়ে তিনি নিজেকে চরমপন্থী ভাবধারার প্রভাব থেকে বেরিয়ে বিএনপির লোক পরিচয় দিচ্ছেন। জেলা বিএনপির সভাপতির নাম ভাঙিয়ে তিনি এখন আমাদের সমস্ত জমি, দোকান ও গাছপালা আত্মসাতের পাঁয়তারা করছেন। তিনি আমাদের প্রাণনাশের পরিকল্পনা করছেন, তার কাছে অবৈধ অস্ত্রও রয়েছে।’
সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, প্রাণভয় ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে তিনি ভাসুর ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে ঝিনাইদহ সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নম্বর- ১২৩৬, তারিখ: ১৯.০৭.২০২৬) দায়ের করেছেন। বর্তমানে তিনি নাবালিকা কন্যা সন্তানকে নিয়ে হামদহ ঘোষপাড়ার ভিটা ছেড়ে যশোরে বাপের বাড়িতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।
টুম্পা রানী ঘোষ তার স্বামীর সম্পদ ফিরে পেতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে টুম্পা রানীর বাবা সুভাষ ঘোষ ও ভাই আকাশ ঘোষ উপস্থিত ছিলেন।