বাগেরহাট প্রতিনিধি
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) বাস সেবা নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।
সরকারি পরিবহন সংস্থা হিসেবে সাশ্রয়ী ও নির্ভরযোগ্য সেবা দেওয়ার কথা থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা, অতিরিক্ত যাত্রী বহন, স্টাফদের দুর্ব্যবহার এবং সময়সূচি না মেনে বাস পরিচালনার অভিযোগে বিপাকে পড়েছেন যাত্রী।
স্থানীয় সূত্র ও যাত্রীদের অভিযোগ অনুযায়ী, মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা-খুলনা রুটে চলাচলকারী বেশ কিছু বাসের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। পুরনো ও ঝুঁকিপূর্ণ বাসে আসনের অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহনের জন্য অস্থায়ী টুল ও মোড়া বসিয়ে যাত্রী বহন করা হয়। এতে যাত্রীরা যেমন ভোগান্তিতে পড়ছেন, তেমনি নিরাপত্তা ঝুঁকিও বাড়ছে।
অভিযোগ রয়েছে, অতিরিক্ত যাত্রী বহনের মাধ্যমে অবৈধভাবে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে।
শরণখোলার এক যাত্রী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সরকারি বাস বলে ভরসা করে যাতায়াত করি। কিন্তু বাস পরিচালনার অব্যবস্থাপনা এবং স্টাফদের আচরণ দেখে মনে হয় যাত্রীদের প্রতি তাদের কোনো দায়বদ্ধতা নেই।
স্থানীয় ব্যবসায়ী তারিকুল ইসলাম মিঠুর একটি ব্যাটারি হারিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে ঘিরে যাত্রীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, বিষয়টি প্রথমে অস্বীকার করা হলেও পরে স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ে সমঝোতা হয়।
স্থানীয় শিক্ষক মো. শাহজাহান খান বলেন, ২০২৪ সালের আগে এই রুটে বিআরটিসির পাশাপাশি নিউ হানিফ, পদ্মা তালুকদার ও ইমা পরিবহনসহ একাধিক বাস চলাচল করত। তখন যাত্রীদের এত ভোগান্তি পোহাতে হতো না। বর্তমানে বিআরটিসি কার্যত এককভাবে সেবা দিচ্ছে। ফলে প্রতিযোগিতা না থাকায় যাত্রীসেবার মান কমে গেছে।
অভিযোগের বিষয়ে বিআরটিসির সুপারভাইজার সোহাগ বলেন, যাত্রীদের অভিযোগ অস্বীকার করছি না, তবে অনেক অভিযোগ অতিরঞ্জিত। প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক যাত্রী পরিবহন করতে হয়। কখনও অতিরিক্ত চাপের কারণে কিছু সমস্যা দেখা দেয়।
বিআরটিসির সংশ্লিষ্ট ডিপো ম্যানেজার বলেন, মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা-খুলনা রুটে যাত্রীদের অভিযোগ আমাদের নজরে এসেছে। অতিরিক্ত যাত্রী বহন, স্টাফদের অসদাচরণ, সময়সূচি লঙ্ঘন কিংবা মালামাল ব্যবস্থাপনায় কোনো অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।