লোহাগড়া (নড়াইল) প্রতিনিধি
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় পাওনা টাকা দেওয়ার কথা বলে ডেকে নিয়ে মো. আলিনুর ফকিরকে (৩০) হত্যার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২২ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসীর আয়োজনে কুমারডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন শেষে খুনিদের ফাঁসির দাবিতে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি কুমারডাঙ্গা-রাধানগর সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে শেষ হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন নিহতের মা সেলিনা বেগম, স্ত্রী কামরুন্নাহার সুমি, বোন শুকিয়া বেগম।
এছাড়া অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন, কাজি আল-হেলাল, রকেট শেখ, কায়েম শেখ, রিজাবুল শেখ, আরোজ আলীসহ অনেকে।
মানববন্ধনে নিহতের মা সেলিনা বেগম খুনিদের ফাঁসি চেয়ে বলেন, 'আমি মরবো, আমার বাবা (আলিনুর) আমাকে মাটি দেবে, কানবে, দোয়া করবে। কিন্তু আজকে এরা আমাকে কানতে দেছে, আমার বুক খালি করে। আমার মা বলা ডাক হারায় ফেলাইছে। আমার বাবার একটা বাচ্চা আর আমারে ফেলাই গেছে সাগরে। ওই বাচ্চা দুইদিন পরে ওর আব্বুরে খুঁজলে আমি ওর আব্বুরে কনতে দিবানি। আমি ভাত নিয়ে বসে ছিলাম বাবার জন্য কিন্তু ওরা বাবারে ভাত খাতি দিলো না।'
নিহত আলিনুর ফকিরের স্ত্রী কামরুন্নাহার সুমি বলেন, 'আমার বাচ্চাডারে স্বামীর কোলে দিতে পারি নাই, দেখো এই যে তোমার মেয়ে। আমার মেয়ে যখন বড় হয়ে বলবে, আমার আব্বু কই আমি তখন ওকে কী জবাব দেবো? আমি কিরাম কবো তোর আব্বুরে ওরা মাইরে ফেলাইছে। আমার স্বামী যদি ওদের টাকা নিয়ে খাতো তাও মনরে বুঝ দিতে পারতাম যে পরের টাকা নিয়ে খাইছে শোধ করতে পারে নাই তাই মাইরে ফেলাইছে। আমাদের পাওনা টাকা দিতি চাইয়ে আমার স্বামীরে কেমনে মাইরে ফেলালো। আমার এবং আমার বাচ্চার দায়িত্ব এখন কিডা নেবে?'
এ ব্যাপারে লোহাগড়া থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত রায় বলেন, আলিনুর হত্যা মামলার প্রধান দুই আসামিকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।
উল্লেখ্য, গত শনিবার (১৮ জুলাই) রাত ১০টার দিকে লোহাগড়ার কুমারডাঙ্গা গ্রামের প্রাইমারি স্কুলের পাশে পাওনা টাকা দেওয়ার কথা বলে ডেকে নিয়ে প্রতিপক্ষ রাজিব শেখসহ তার সহযোগীরা ছুরি দিয়ে নির্মাণশ্রমিক আলিনুর ফকিরকে হত্যা করে পালিয়ে যায়। পরে সোমবার (২০ জুলাই) রাতে নিহত আলিনুর ফকিরের ভাই আমিনুর ফকির বাদী হয়ে রাজিব শেখকে প্রধান আসামি করে ১৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৫-৭ জনের নামে লোহাগড়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।