যশোর, বাংলাদেশ || বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

শিক্ষার্থী পরিচয়ে যবিপ্রবির ছাত্রী হলে অবস্থান বহিরাগতের

যবিপ্রবি প্রতিনিধি

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১২ মে,২০২৬, ০৭:৩০ পিএম
শিক্ষার্থী পরিচয়ে যবিপ্রবির ছাত্রী হলে অবস্থান বহিরাগতের

শিক্ষার্থী পরিচয় দিয়ে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) বীরপ্রতীক তারামন বিবি ছাত্রী হলে দীর্ঘ সময় অবস্থান করেছেন মুক্তা খাতুন নামে এক বহিরাগত তরুণী।

অভিযোগ রয়েছে, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থী পরিচয় দিয়ে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন একটি ছাত্রী মেসে প্রায় দেড় বছর এবং পরে ছাত্রী হলে প্রায় দেড় মাস অবস্থান করেন। বিষয়টি শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রকাশ পেলে গত ৭ মে সকালে তিনি হল ত্যাগ করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মুক্তা খাতুন ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর মাসে নিজেকে যবিপ্রবির ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী পরিচয় দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন আমবটতলার ইসলামপুর রোডের একটি ছাত্রী মেসে ওঠেন। পরবর্তীতে গত ২ এপ্রিল তিনি বীর প্রতীক তারামন বিবি ছাত্রী হলের ৭১৫ নম্বর কক্ষে ওঠেন।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, হলে ও মেসে অবস্থানকালে তিনি কখনো মার্কেটিং, কখনো অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস (এআইএস) বিভাগের শিক্ষার্থী বলে পরিচয় দিতেন। বিভিন্ন সময় বিভাগ ও পরিচয় পরিবর্তন করায় সহপাঠীদের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়।

পরে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো বিভাগেই মুক্তা খাতুন নামে কোনো শিক্ষার্থী নেই।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগ ও রেজিস্ট্রার দপ্তরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই নামে কোনো শিক্ষার্থীর তথ্য পাওয়া যায়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী জানান, প্রথম বর্ষে ভর্তি হওয়ার সময় থেকেই মুক্তার সঙ্গে তার পরিচয়। একই মেসে থাকার সুবাদে তিনি জানতে পারেন, মুক্তা নিয়মিত নিজেকে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচয় দিতেন। এমনকী ক্লাস টেস্ট, প্রেজেন্টেশন ও পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথাও বলতেন। পরে জানা যায়, তিনি আদৌ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নন।

ওই শিক্ষার্থী আরও অভিযোগ করেন, মুক্তার বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগও রয়েছে।

আরেক শিক্ষার্থী জানান, মুক্তা নিজেকে এআইএস বিভাগের শিক্ষার্থী দাবি করতেন এবং কক্ষে ওই বিভাগের বই-খাতা রাখতেন।

পরে জানা যায়, সেগুলো অন্যের কাছ থেকে অনুমতি ছাড়া এনে রেখেছিল। তিনি আরও বলেন, আমি কখনো তাকে ক্লাসে যেতে দেখিনি। জিজ্ঞেস করলে বলতো, তাদের ক্লাস কম হয়।

এ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তারা প্রশ্ন তুলেছেন, কীভাবে একজন বহিরাগত দীর্ঘদিন হলে অবস্থান করতে পারলেন।

এ বিষয়ে জানতে মুক্তা খাতুনের মোবাইলফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

তবে তার মামা ফারুক হোসাইন বলেন, আমার ভাগ্নী যবিপ্রবিতে ভর্তি হয়েছিল। বর্তমানে কেন তার ছাত্রত্ব নেই, সেটি জানার জন্য ইউজিসিতে কর্মরত এক আত্মীয়ের সঙ্গে কথা বলছি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. হামিদুর রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী না হয়েও হলে অবস্থান করা অন্য শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তিনি এক শিক্ষার্থীর অতিথি পরিচয়ে হলে ওঠেন এবং পরে দীর্ঘ সময় অবস্থান করেন। ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। দ্রুতই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে বীরপ্রতীক তারামন বিবি ছাত্রী হলের প্রভোস্ট ড. মোসা. আফরোজা খাতুনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি বর্তমানে মিটিংয়ে আছি, পরে কথা বলব।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)