খুবি প্রতিনিধি
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে ধারাবাহিক ধর্ষণ, নৃশংস হত্যাকাণ্ড ও বিচারহীনতার সংস্কৃতির প্রতিবাদে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে (খুবি) বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২২ মে) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘অদম্য বাংলা’ ভাস্কর্যের সামনে এই কর্মসূচির আয়োজন করেন শিক্ষার্থীরা। সমাবেশ থেকে ধর্ষক ও খুনিদের দ্রুত বিচার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।
সমাবেশে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন প্রতিবাদী স্লোগান দেন। তাদের অভিযোগ, দেশে একের পর এক ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড ঘটলেও কার্যকর বিচার নিশ্চিত না হওয়ায় অপরাধের মাত্রা দিন দিন বাড়ছে। একই সঙ্গে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।

সমাবেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী জাহিদ বলেন, ‘সাধারণ মানুষের ভোটে নির্বাচিত হয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব যারা পেয়েছেন, তারা যখন এমন নৃশংস ঘটনাকে হালকাভাবে নিয়ে উপহাসের মতো আচরণ করেন, তখন তা পুরো জাতির জন্য লজ্জাজনক’। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মূল দায়িত্ব দেশের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কোনো বিতর্কিত মন্তব্য করা নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সমাবেশে সংহতি জানাতে আসা এক নারী শিক্ষার্থী আক্ষেপ করে বলেন, ‘বর্তমানে আমরা দিনের বেলাতেও একা চলাফেরা করতে ভয় পাই। অটোরিকশায় একা উঠতেও ভয় লাগে, এমনকি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ভেতর দিয়ে একা হাঁটতেও অস্বস্তি বোধ করি।’ একজন নারী নাগরিক হিসেবে তিনি সর্বক্ষণ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন উল্লেখ করে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবার নিরাপদে ঘরে ফেরা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ বর্ষের আরেক শিক্ষার্থী তানভীর বলেন, ‘আমরা এমন একটি বাস্তবতায় বসবাস করছি যেখানে সময় বদলায়, সরকার বদলায়, কিন্তু সাধারণ মানুষের ভাগ্য বদলায় না। বিদ্যমান রাষ্ট্রীয় কাঠামো নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ’। ধর্ষণ নির্মূল করতে অপরাধীর দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা অপরিহার্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।
একই বর্ষের শিক্ষার্থী রাদ বলেন, দেশের মানুষ বিচারের নামে আর দীর্ঘসূত্রতা দেখতে চায় না। ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধে কেউ হাতেনাতে ধরা পড়লে দ্রুততম সময়ে বিচার সম্পন্ন করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি তিনি ধর্ষণ-সংক্রান্ত অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য আইন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে পৃথক কমিশন গঠনের প্রস্তাব করেন।
ভবিষ্যতে এ ধরনের জঘন্য ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং নারী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমাবেশ থেকে শিক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।