শাম্মী আক্তার মিথি
, খুবি
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে 'বাংলাদেশি নারীদের ব্রেস্ট ক্যান্সার চিকিৎসায় ব্যক্তিকেন্দ্রিক বা প্রিসিশন মেডিসিনভিত্তিক গবেষণা কার্যক্রম' শীর্ষক ইনসেপশন ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি ডিসিপ্লিনের হিট সাব-প্রকল্পের আওতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গবেষণাগারের সম্মেলন কক্ষে এটি অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালায় গবেষণা প্রকল্পের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। গবেষণাটির মূল লক্ষ্য বাংলাদেশি নারী ব্রেস্ট ক্যান্সার রোগীদের চিকিৎসা-প্রতিক্রিয়ায় জিনগত বৈচিত্র্যের প্রভাব বিশ্লেষণ এবং প্রিসিশন মেডিসিনভিত্তিক কার্যকর চিকিৎসা পদ্ধতির সম্ভাবনা অনুসন্ধান।
সকালে এ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি উপাচার্য প্রফেসর ড. রেজাউল করিম বলেন, এ গবেষণা ভবিষ্যতে ব্রেস্ট ক্যান্সার রোগীদের চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে এবং রোগীদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে উঠতে পারে।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার যুগোপযোগী গবেষণায় বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। হিট প্রকল্পের মাধ্যমে মৌলিক গবেষণার নতুন ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে, যা দেশের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণাকে আরও সমৃদ্ধ করবে।
এই প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত গবেষণাগুলো খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা সক্ষমতা ও একাডেমিক অগ্রযাত্রার গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন। এসব গবেষণার সুফল সাধারণ মানুষের কল্যাণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ওয়ার্কশপে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. হারুনর রশীদ খান। তিনি বলেন, গবেষণার ক্ষেত্রে ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া কোলাবরেশন অত্যন্ত জরুরি। ওষুধ শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্টরা এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।
তিনি বলেন, এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ওষুধ প্রয়োগ-পরবর্তী ইমপ্যাক্ট সম্পর্কে জানা যাবে। প্রিসিশন মেডিসিনভিত্তিক এ গবেষণা ভবিষ্যতে কার্যকর চিকিৎসা পদ্ধতি উদ্ভাবনে সহায়ক হবে।
হিট প্রজেক্টের লক্ষ্য অর্জনের মাধ্যমে গবেষণার পাশাপাশি অবকাঠামোগত উন্নয়নও সম্ভব হবে বলে মত দেন তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ট্রেজারার প্রফেসর ড. নূরুন্নবী বলেন, এটি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক একটি প্রকল্প। ক্যান্সার গবেষণায় প্যাটেন্ট ও ইনোভেশনের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশি নারীদের ব্রেস্ট ক্যান্সার চিকিৎসায় কার্যকর মেডিকেশন ও গবেষণাভিত্তিক সমাধান উদ্ভাবন করা গেলে তা অত্যন্ত ইতিবাচক হবে। সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে প্রকল্পটি যথাসময়ে সম্পন্ন করতে হবে।
এটি হবে একটি ইমপ্যাক্টফুল ও সফল প্রকল্প।
ফার্মেসি ডিসিপ্লিনের প্রধান (চলতি দায়িত্ব) প্রফেসর ড. জামিল আহমেদ শিল্পীর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন জীববিজ্ঞান স্কুলের ডিন প্রফেসর ড. গোলাম হোসেন ও গণস্বাস্থ্য কমিউনিটি বেজড ক্যান্সার হাসপাতাল, ঢাকার এপিডেমিওলজিস্ট ও প্রিভেন্টিভ অনকোলজিস্ট প্রফেসর ড. হাবিবুল্লাহ তালুকদার।
কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাব-প্রকল্পের এসপিএম প্রফেসর ড. মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি ব্রেস্ট ক্যান্সারের পরিসংখ্যান, প্রচলিত চিকিৎসাসহ নানা বিষয় তুলে ধরেন।
স্বাগত বক্তব্য রাখেন সাব-প্রকল্পের এএসপিএম প্রফেসর ড. সাইফুজ্জামান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাব-প্রকল্পের এএসপিএম গাজী মনজুর মুর্শিদ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর দুটি টেকনিক্যাল সেশন অনুষ্ঠিত হয়। সেশন উপস্থাপন করেন ক্যান্সার এপিডেমিওলজিস্ট ও প্রিভেন্টিভ অনকোলজিস্ট প্রফেসর ড. হাবিবুল্লাহ তালুকদার এবং খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রেডিওথেরাপি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. মুকিতুল হুদা।
এছাড়া, উন্মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা প্রকল্প বাস্তবায়ন, গবেষণা সম্প্রসারণ এবং স্বাস্থ্যখাতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে মতামত ও পরামর্শ প্রদান করেন।
হায়ার এডুকেশন অ্যাঙ্লিারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট) সাব-প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত এ কর্মশালায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।