সুবর্ণভূমি ডেস্ক
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, শূন্যপাস শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের আমি ট্রান্সফার করে দেবো- এজন্যই আমি ২০০৫ খ্রিষ্টাব্দে এনটিআরসিএ বানিয়েছিলাম। দ্যাট ইস মাই ব্রেইন চাইল্ড।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) চট্টগ্রাম কলেজ অডিটোরিয়ামে ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা উপলক্ষে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড, এবং চট্টগ্রাম অঞ্চলের মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন কেন্দ্রগুলোর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত এই সভায় প্রধান অতিথি থেকে তিনি এ কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী আরো বলেন, একটি স্কুল বা মাদরাসায় মাসে চার লাখ টাকা এমপিও দেয়া হচ্ছে, বছরে ৪৮ লাখ টাকা দেয়া হচ্ছে। সেখানে একটি ছাত্রও পরীক্ষা দেবে না ও শতভাগ ফেল করবে এটা কি হতে পারে? তাহলে কী করবো? ওনাদের এমপিও ক্যানসেল করে দেবো? এটা বলা ঠিক না। আমি ওনাদের ট্রান্সফার করে দেবো- এজন্যই আমি ২০০৫ খ্রিষ্টাব্দে এনটিআরসিএ বানিয়েছিলাম। দ্যাট ইস মাই ব্রেইন চাইল্ড।
আমি এনটিআরসিএ‘র মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ সুপারিশের ব্যবস্থা করেছি। এই এনটিআরসিএ‘র মাধ্যমে শিক্ষকদের বদলির ব্যবস্থা করবো। তাদের চাকরি যাবে না। কারণ আপনাদের এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো ছেলেমেয়ে পড়ছেন না। তাহলে সরকার কোনো জরিমানা দেবে। কিন্তু তখন এই সংসদ সদস্যরা আমার কাছে তেড়ে আসবেন। তখন আমি তাদের সময় বেধে দেবো, এক বছরের জন্য ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঠিক করতে হবে না হলে আমি প্রধানমন্ত্রীকে বলবো।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষায় ব্যাপক প্রবলেম (সমস্যা) রয়েছে। আমাদের কাজ করতে হবে। এমন খারাপ অবস্থা চারমাসে আমরা কূল কিনারা পাচ্ছি না। এটা মতবিনিমিয় সভা, আমি চাচ্ছি সবাই থাকেন। আপনাদের কথা শুনতে চাই সেজন্য এসেছি। ২ জুলাই এইচএসসি পরীক্ষা আপনার সুন্দর হয় সে দায়িত্ব আপনাদের বেশি।
তিনি বলেন, শিক্ষকদের আমি চিনি-জানি, আপনারা সরকার যা চায় তাই করেন। ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দে আমরা কি আমেরিকা থেকে শিক্ষক আমদানি করেছিলাম? করিনি। আমাদের মন্ত্রণালয়ে ব্যাপক খারাপ অবস্থা, এমন খারাপ অবস্থা যে আমরা চার মাসে কোনো কূল-কিনারা পাইনা।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন চৌধুরীর সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন এবং ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল উদ্দীন। এছাড়া বোর্ডের আওতাধীন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও পরীক্ষা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা সভায় অংশ নেন।