রূপক মুখার্জি, লোহাগড়া (নড়াইল)
এই দেশে ঋতুচক্রের ছোঁয়ায় প্রকৃতির বুকে ফোটে নানা রঙের ফুল। এসব ফুল প্রকৃতিকে সাজিয়ে তোলে অপার সৌন্দর্যের আবরণে।
গ্রীষ্মের শুরুতেই নড়াইলের প্রকৃতিতে ফুটেছে তেমনই এক মনভুলানো ফুল আগুনরাঙা কৃষ্ণচূড়া। তপ্ত রোদ আর শুষ্ক আবহাওয়ার মধ্যেও প্রকৃতিতে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে এই অপরূপ ফুল।
কৃষ্ণচূড়ার রঙিন ছোঁয়ায় গ্রীষ্মের প্রকৃতি হয়ে উঠেছে আরও আকর্ষণীয় ও প্রাণবন্ত। প্রকৃতির এই চোখজুড়ানো সৌন্দর্যে মুগ্ধ হচ্ছেন শিক্ষার্থী, পথচারী, স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রকৃতিপ্রেমীরা।
কৃষ্ণচূড়া গাছের বৈজ্ঞানিক নাম Delonix regia। এটি ফ্যাবেসি পরিবারের অন্তর্গত একটি শোভাবর্ধক বহুবর্ষজীবী উদ্ভিদ। চমৎকার পত্র-পল্লব এবং আগুনলাল ফুলের জন্য প্রসিদ্ধ এই গাছটি আগুনচূড়া, লালচূড়া বা গুলমোহর নামেও পরিচিত।
কৃষ্ণচূড়া ফুল সাধারণত উজ্জ্বল লাল বা গাঢ় লাল রঙের হয়, যা দূর থেকে আগুনের শিখার মতো দেখায়। তবে, এদের মধ্যে কমলা ও হলুদ রঙের বৈচিত্র্যও দেখা যায়। সাধারণত বসন্তের শেষদিকে ও গ্রীষ্মের শুরুতে প্রস্ফুটিত হয়ে এই ফুল প্রকৃতিকে উজ্জ্বল রঙে রাঙিয়ে তোলে।
লোহাগড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন সড়ক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বাড়ির আশপাশের গাছগুলো গাঢ় লাল রঙের ফুলে ভরে উঠেছে। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, সবুজের বুকে যেনো লাল আগুন জ্বলে উঠেছে।
এই নৈসর্গিক সৌন্দর্যে বিমোহিত হয়ে কেউ কেউ মোবাইলফোনে স্মৃতি ধরে রাখছেন, আবার কেউ নিজেকে ক্যামেরাবন্দী করছেন। কিশোরী ও তরুণীরা তাদের চুলের সৌন্দর্য বাড়াতে এই ফুল খোঁপায় ও বেণিতে ব্যবহার করছেন।
নড়াইলের কন্টেন্ট ক্রিয়েটর রেজাউল ইসলাম বলেন, কৃষ্ণচূড়া ফুল ফুটলে মনে হয় গ্রীষ্ম সত্যিই এসে গেছে। এই ফুলের রঙ আর সৌন্দর্য ব্যস্ততার মাঝেও এক ধরনের প্রশান্তি এনে দেয়।
কালিয়া পৌর শহরের বাসিন্দা চয়ন চৌধুরী ও কলেজ শিক্ষার্থী রাজদীপা মুখার্জিও এই ফুলের সৌন্দর্যে নিজেদের মুগ্ধতার কথা জানান। তারা বলেন, চলতি পথে কৃষ্ণচূড়ার এই দৃশ্য যেকোনো মানুষেরই মন ভালো করে দেয়।
লোহাগড়া সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক এস এম হায়াতুজ্জামান জানান, শুধু সৌন্দর্য নয়, কৃষ্ণচূড়া গাছ পরিবেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। এটি গ্রীষ্মের প্রচণ্ড গরমে পথচারীদের ছায়া ও স্বস্তি দেয়।
অন্যদিকে, লোহাগড়া সরকারি আদর্শ কলেজের সহকারী অধ্যাপক কামরুন্নাহার লিনা এই ফুলের ঔষধি গুণের কথা উল্লেখ করে বলেন, ইউনানি চিকিৎসায় এর পাতা ও ফুল প্রদাহ কমানো ও ত্বকের সমস্যায় ব্যবহৃত হয়।
পরিবেশকর্মী সোহেল রানা লাক্সমী আক্ষেপ করে বলেন, প্রকৃতি থেকে দিন দিন এই গাছের সংখ্যা কমে যাচ্ছে, যা পরিবেশের জন্য হুমকি। তিনি নতুন করে কৃষ্ণচূড়ার চারা রোপণের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান।
প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কৃষ্ণচূড়াসহ বিভিন্ন দেশীয় বৃক্ষ রোপণে সবার এগিয়ে আসা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।