শাহারুল ইসলাম ফারদিন
, যশোর
আকাশ মেঘলা তবুও বাতাসে ভ্যাপসা গরম। দিনভর হাঁসফাঁস অবস্থা। শহরের ব্যস্ত সড়ক, অলিগলি কিংবা গ্রামাঞ্চলের মেঠোপথ সবখানেই একই চিত্র। তবে এই ক্লান্ত, ধুলোমাখা গরমের মাঝেই প্রকৃতি যেন নিজ হাতে আঁকছে এক রঙিন দৃশ্য কৃষ্ণচূড়ার রক্তিম সৌন্দর্যে বা কৃষ্ণচূড়ার লাল আগুনে।
দিনের বেলায় ভ্যাপসা গরমে যখন প্রাণিকুলের ত্রাহি অবস্থা, রাত নামলে বদলে যায় আবহ। প্রায় প্রতিদিনই বইছে হঠাৎ ঝড়ো হাওয়া, কোথাও কোথাও হচ্ছে স্বল্পস্থায়ী বৃষ্টি। অনেক এলাকায় আবার হচ্ছে ভারী বৃষ্টি। সেই বৃষ্টিতে ধুলায় ঢাকা গাছপালা ধুয়ে-মুছে যায়, আর সকালে সূর্যের আলো পড়তেই কৃষ্ণচূড়ার লাল ফুলগুলো হয়ে ওঠে আরও উজ্জ্বল, আরও প্রাণবন্ত। ভোরের নরম আলোয় ঝরে পড়া পাপড়িতে তৈরি হয় লাল কার্পেটের মতো দৃশ্য; যা পথচারীদের থমকে দাঁড়াতে বাধ্য করে।
যশোর সদরের নুপুর গ্রামের টেংকুর মোড়ে ভৈরব নদীর কোল ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা একটি কৃষ্ণচূড়া গাছ যেন গ্রীষ্মের দাবদাহ আর একই সঙ্গে প্রশান্তির প্রতীক হয়ে উঠেছে। প্রখর রোদে পথচারীদের ছায়া দেওয়ার পাশাপাশি গাছটি ভরে উঠেছে লাল ফুলে। দুপুরের দিকে গাছের নিচে বিশ্রাম নেন ক্লান্ত পথিক, তার মাথার ওপর আগুনরাঙা কৃষ্ণচূড়া যেন প্রকৃতির নিজস্ব ছাউনি।
শুধু গ্রামাঞ্চলেই নয়, যশোর শহরের নানা প্রান্তেও একই ধরনের সৌন্দর্য ছড়িয়ে আছে। কালেক্টরেট, সরকারি বালিকা বিদ্যালয়, জেলা জজ আদালত, পৌর পার্ক, এমএম কলেজ ক্যাম্পাস, মুজিব সড়কসহ বিভিন্ন রাস্তা ও উন্মুক্ত স্থানে শোভা পাচ্ছে কৃষ্ণচূড়ার লাল আগুন। সবুজ পাতার ভেতর লাল ফুলের এই সমারোহ ইটপাথরের চিরচেনা শহরের রূপ বদলে দেয়।
পথচারী ও সংশ্লিষ্ট এলাকায় কর্মরতদের মনে প্রশান্তি আনে এই সৌন্দর্য। কেউ হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ থমকে দাঁড়ান, কেউ মোবাইল ফোনে ছবি তোলেন। তাদের মতে, গরমের দাপট কষ্ট বাড়ালেও কৃষ্ণচূড়ার রঙিন উপস্থিতি মন ভালো করে দেয়। বিশেষ করে রাতের বৃষ্টির পর সকালে যখন রোদ পড়ে, তখন এই ফুলের রূপ বেড়ে যায়।
যশোর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মোশাররফ হোসেন বলেন কৃষ্ণচূড়া বা গুলমোহর শুধু সৌন্দর্যের প্রতীকই নয়, পরিবেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ একটি বৃক্ষ। এর বৈজ্ঞানিক নাম ডেলোনিক্স রেজিয়া। দ্রুত বর্ধনশীল এই গাছ ছায়া দেয়, তাপমাত্রা কিছুটা কমাতে সহায়তা করে। সাধারণত লাল রঙের কৃষ্ণচূড়াই বেশি দেখা গেলেও হলুদ ও সাদা প্রজাতিও রয়েছে।