পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে যশোরে খাইট্টার ব্যাপক চাহিদা বেড়েছে। কাঠের গুঁড়ি দিয়ে তৈরি এই খাইট্টা সাধারণত কোরবানির পশুর মাংস ও হাড় টুকরো করার কাজে ব্যবহৃত হয়।
সারা বছর এই বিশেষ বস্তুটির চাহিদা তেমনএকটা থাকে না। কিন্তু কোরবানির ঈদের সময় হঠাৎই বাড়ে চাহিদা। ফলে এই বস্তুটির ব্যবসা মূলত মৌসুমি।
গ্রাম থেকে শহর- সব জায়গাতেই কোরবানির মাংস কাটার জন্য কাঠের এই খাইট্টা বা পাটাতন বা শক্ত কাঠের গুঁড়ির প্রয়োজন হয়। একটি গরুর মাংস প্রস্তুত করতে সাধারণত দুই থেকে তিনটি খাইট্টা লাগে, আর একটি ছাগলের জন্য একটি খাইট্টাই যথেষ্ট।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, যশোরের রূপদিয়া, বসুন্দিয়াসহ বিভিন্ন এলাকার করাতকলে গাছের গুঁড়ি গোল করে কেটে এসব খাইট্টা তৈরি করা হচ্ছে।
অঞ্চলভেদে এগুলোকে খাইট্টা, খটিয়া, কাইটে, গুঁড়ি কিংবা শপার নামেও ডাকা হয়। রূপদিয়া বাজার-সংলগ্ন কয়েকটি করাতকল ঘুরে দেখা যায়, ঈদকে কেন্দ্র করে দম ফেলার ফুসরত নেই শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের।
রূপদিয়ার ‘খান টিম্বার’-এর মালিক শামীম খান জানান, মাংস কাটার কাজে কাঠের খাইট্টার কোনো কার্যকর বিকল্প নেই। বিশেষ করে তেঁতুল কাঠের তৈরি খাইট্টার চাহিদা সবচেয়ে বেশি।
একই এলাকার ‘জাফর স মিল’-এর মালিক জাফর আলী বলেন, ‘তেঁতুল কাঠ অত্যন্ত শক্ত হওয়ায় চাপাতির কোপ সহজে বসে না এবং কাঠের গুঁড়ো খুব কম ওঠে। ফলে কাঠের গুঁড়ো মিশে মাংস নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে না। এই স্থায়িত্বের কারণেই তেঁতুল কাঠের খাইট্টার চাহিদা সবচেয়ে বেশি।’
ঈদ সামনে রেখে যশোরের রূপদিয়া, বসুন্দিয়া, রাজারহাটসহ শহরতলির বিভিন্ন বাজার ও রাস্তার মোড়ে মোড়ে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা খাইট্টার পসরা সাজিয়েছেন। আকার ও মানভেদে প্রতিটি খাইট্টা ১৫০ থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের আশা, ঈদের পূর্বক্ষণে বিক্রি আরও বাড়বে।
রূপদিয়া বাজারে খাইট্টা কিনতে আসা ক্রেতা জামাল হোসেন বলেন, কোরবানির মাংস কাটার জন্য ভালো মানের খাইট্টা খুবই দরকার। সস্তা কাঠের খাইট্টা নিলে মাংসের সাথে গুঁড়ো মিশে যায়। তেঁতুল কাঠের খাইট্টায় সেই ভয় থাকে না, মাংস পরিষ্কার থাকে।
চাহিদা ও ভালো লাভের আশায় সাধারণ ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি অনেক মৌসুমি ব্যবসায়ীও এখন এই ব্যবসায় নেমেছেন।
ক্রেতারাও নিজেদের বাজেট ও প্রয়োজন অনুযায়ী দরদাম করে কিনে নিচ্ছেন কোরবানির এই অতি প্রয়োজনীয় দ্রব্যটি।