কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভুল চিকিৎসা, চিকিৎসায় অবহেলা, হাসপাতালের অব্যবস্থাপনার অভিযোগে দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে।
রোববার (২ আগস্ট) দুপুরে ঝিনাইদহের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করেন মো. তৌহিদুর রহমান। মামলায় এক প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনার পাশাপাশি বাদীর স্ত্রী বর্তমানে জীবনসংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলায় হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. ছহি উদ্দিন এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক মো. আসলাম হোসেনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার উল্লেখ করা হয়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-সংলগ্ন কোটচাঁদপুরের সামসউদ্দিন মেমোরিয়াল (প্রা.) হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে গিয়ে বাদীর স্ত্রী ইয়াফা আফরিন গুরুতর চিকিৎসাগত জটিলতার শিকার হন।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ৩ জুলাই সিজারিয়ান অপারেশনের জন্য ইয়াফা আফরিনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ উন্নত চিকিৎসা, আধুনিক যন্ত্রপাতি ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মাধ্যমে নিরাপদ অপারেশনের আশ্বাস দিলেও অপারেশনের সময় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রটোকল অনুসরণ করা হয়নি।
বাদীর দাবি, অপারেশনের সময় রোগীর জরায়ুর ভেতরে অতিরিক্ত ও অপ্রয়োজনীয় গজ ও ব্যান্ডেজ রেখে দেওয়ার কারণে জরায়ু মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ, সংক্রমণ ও জটিলতা সৃষ্টি হয়ে রোগীর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হলেও যথাসময়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে অবহেলা করা হয়েছে।
পরবর্তীতে রোগীর অবস্থার অবনতি হলে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে পুনরায় অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে গুরুতর চিকিৎসাগত জটিলতার বিষয়টি শনাক্ত হয় বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে।
এছাড়া মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, একই হাসপাতালের চিকিৎসায় অবহেলার কারণে এর আগে পপি খাতুন নামে অপর এক প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।
বাদীপক্ষ আদালতের কাছে মামলাটি আমলে নিয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন জানিয়েছেন।
তবে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে অভিযুক্ত চিকিৎসকদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।