স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
যশোর জেলায় নতুন করে ৩৫ ব্যক্তি এইচআইভি পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এ হিসাব চলতি ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত।
আক্রান্তদের বড় অংশই প্রবাসফেরত ব্যক্তি এবং স্থানীয় কলেজশিক্ষার্থী।
বুধবার (১০ জুন) সকালে যশোর জেনারেল হাসপাতালের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত ‘এইচআইভি, মানবাধিকার ও নৈতিক স্বাস্থ্য সাংবাদিকতা’ বিষয়ক ওরিয়েন্টেশন শেষে আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আহসান কবির বাপ্পি এই তথ্য দিয়েছেন। স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে মেডিকেল বিটে কর্মরত সাংবাদিকদের জন্য এই ওরিয়েন্টেশনের আয়োজন করা হয়।
ওরিয়েন্টেশনে জানানো হয়, যশোরে আশঙ্কাজনক হারে এইচআইভি (এইডস) আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। তরুণ প্রজন্ম ও প্রবাসীদের মধ্যে এই সংক্রমণের হার বৃদ্ধি পাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
ডাক্তার একেএম রাফিদ হোসেনের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠিত ওরিয়েন্টেশনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন যশোর জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডাক্তার হাবিবা সিদ্দিকা ফোয়ারা, এইচআইভি প্রোগ্রাম এর কো-অর্ডিনেটর ডাক্তার কানিজ ফাতেমা এ্যানিসহ সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

ওরিয়েন্টেশনে আলোচকরা বলেন, এইচআইভি আক্রান্তদের মানবাধিকার রক্ষা এবং নৈতিকতা বজায় রেখে স্বাস্থ্য সাংবাদিকতা করা এখন সময়ের দাবি। আক্রান্তদের প্রতি সামাজিক বৈষম্য দূর করতে এবং সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সঠিক তথ্যের প্রচার এবং সময়মতো পরীক্ষা ও চিকিৎসার মাধ্যমে এই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব বলে ওরিয়েন্টেশনে উল্লেখ করা হয়।
অনুষ্ঠানে যশোর জেনারেল হাসপাতালের অন্যান্য চিকিৎসক, স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা এবং স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।
ওরিয়েন্টেশন শেষে যশোর জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আহসান কবির বাপ্পি জানান, চলতি বছরের ৫ জুন পর্যন্ত এই মরণব্যাধিতে নতুন শনাক্ত হওয়া ৩৫ জনের মধ্যে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। আটজনই বিভিন্ন দেশের প্রবাসফেরত নাগরিক। পাঁচজন যশোরের বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থী, সমকামী দশজন এবং অন্যান্য ছয়জন।
এ সময় ১২ শতাধিক ব্যক্তির রক্ত পরীক্ষা করা হয়। আক্রান্ত সবার বয়স ২৫ থেকে ৩৫ এর মধ্যে। তিনি আরো বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর চেয়ে সাধারণ মানুষের আক্রান্তের হার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এখন কাউন্সেলিং না করলে এ মাত্রা আরো বৃদ্ধি পাবে বলে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
ওরিয়েন্টেশনের শেষ পর্যায়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হোসাইন শাফায়াত উপস্থিত হন। তিনি সংবাদকর্মীদের সাথে নানা বিষয়ে কথা বলেন।