সুবর্ণভূমি ডেস্ক
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে চরম বিশৃঙ্খলা ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
লাইভ ট্র্যাকার অনুযায়ী, বর্তমানে সব জাহাজই প্রণালির পশ্চিম দিকে ফিরে যাচ্ছে। ইরান বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য পথটি খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।
গতকালও অন্তত ১২টি জাহাজ লারাক দ্বীপের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল, যেখানে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) যাতায়াত পর্যবেক্ষণ করছে। তবে সেগুলো মাঝপথ থেকেই ফিরে আসে।
আজ প্রায় ১০টি জাহাজ প্রণালি পার হয়ে ওমান উপসাগরে প্রবেশ করেছে। এর মধ্যে ৫টি জাহাজ আগে থেকেই মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, মার্কিন নৌ-অবরোধ এগুলোকে থামায় কি না। তবে যারা এই পথ পার হতে পেরেছে, তারা সবাই ইরানের নির্ধারিত পথ ব্যবহার করেছে।
আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলোর জন্য এই পরিস্থিতি অত্যন্ত বিভ্রান্তিকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে হাজার হাজার জাহাজ সাগরে আটকা পড়ে আছে এবং বেশিরভাগই কোনো ধরনের ঝুঁকি নিতে চাইছে না।
এদিকে উপসাগরীয় দেশগুলো এই পরিস্থিতির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। তাদের মতে, এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দেশগুলো বারবারই বলে আসছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে অবাধে জাহাজ চলাচলের অধিকার সবার রয়েছে এবং ইরান কোনোভাবেই এতে বাধা দিতে পারে না।
পার হলো আটটি তেল ও গ্যাস ট্যাঙ্কার
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে সাময়িক যুদ্ধবিরতি চলাকালীন ইরান গুরুত্বপূর্ণ এই বাণিজ্য পথটি উন্মুক্ত ঘোষণা করার পর অন্তত আটটি তেল ও গ্যাস ট্যাঙ্কার হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে।
জাহাজ চলাচলের ট্র্যাকিং তথ্যের বরাত দিয়ে এই খবর জানা গেছে।
ট্র্যাকিং প্রতিষ্ঠান ‘কপলার’-এর তথ্য অনুযায়ী, শনিবার ভোরে একটি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাঙ্কার, চারটি এলপিজি (তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস) বাহী জাহাজ, দু’টি তেল ও রাসায়নিক ট্যাঙ্কার এবং একটি ‘তেল পণ্য’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ জাহাজ প্রণালিটি পার হয়েছে।
অন্য একটি ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্ম ‘মেরিন ট্রাফিক’ দেখিয়েছে, ইরানের লারাক দ্বীপের কাছে আরো বেশ কিছু অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাঙ্কার অবস্থান করছে। লারাক দ্বীপটি মূলত পারস্য উপসাগর থেকে বের হতে চাওয়া জাহাজগুলোর জন্য একটি চেকপয়েন্ট হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যা বর্তমানে ইরানি বাহিনীর অবরোধের আওতায় রয়েছে।
উল্লেখ্য, ইরানি বাহিনী এই প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় পারস্য উপসাগরে শত শত জাহাজ আটকা পড়ে আছে। এর ফলে পণ্য পরিবহনের খরচ বহুগুণ বেড়ে গেছে। হামলার আশঙ্কা কিংবা মাইন আতঙ্কে অনেক জাহাজের ক্যাপ্টেন এই অঞ্চলটি এড়িয়ে চলছেন। তবে সাময়িক এই সুযোগে কিছু জাহাজ পার হওয়ার খবর পাওয়া গেল।
সূত্র : আল-জাজিরা