সুবর্ণভূমি ডেস্ক
মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসনে শহীদ হওয়া ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা ও দাফনের সময়সূচি করেছে দেশটির সরকার। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে। কাকতালীয়ভাবে ইরানে এই রাষ্ট্রীয় শোক ও জানাজা প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার দিনটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবসের সঙ্গে মিলে গেছে।
দেশটির সরকারি সূত্রের বরাতে আল জাজিরা জানায়, আগামী ৪ জুলাই রাজধানী তেহরানে খামেনির জানাজা হবে। জানাজার পাঁচদিন (৯ জুলাই) পর জন্মস্থান মাশহাদ শহরে তাকে দাফন করা হবে।
এ বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান জুড়ে মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলায় ৮৬ বছর বয়সী এই শীর্ষ নেতা নিহত হন। তার মরদেহ এতদিন মর্গে রাখা ছিল। ইরানের ঘোষণা অনুযায়ী খামেনি নিহত হওয়ার ১২৭ দিন পর তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
এর আগে মার্চ মাসে তার দাফন সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও চলমান যুদ্ধের কারণে তা স্থগিত করে তেহরান।
নতুন ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, ৪ জুলাই থেকে তেহরানে তিন দিনব্যাপী শোক ও জানাজা অনুষ্ঠান সম্পন্ন হওয়ার পর ৭ জুলাই পবিত্র কোমে খামেনির আরেকটি জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ৯ জুলাই মাশহাদের ইমাম রেজা কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।
১৯৮৯ সালে ইসলামিক বিপ্লবের মহানায়ক আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খামেনির মৃত্যুর পর খামেনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।
পাহলভি রাজতন্ত্রের পতন ঘটানো খোমেনিযেখানে ছিলেন বিপ্লবের আদর্শিক রূপকার, সেখানে খামেনি দীর্ঘ প্রায় ৩৭ বছরের শাসনামলে ইরানের সামরিক ও আধাসামরিক বাহিনীকে একটি শক্তিশালী কাঠামো দেন।
খামেনেইর মৃত্যুর পর গত মার্চ মাসের শুরুতে তার ছেলে মোজতবা খামেনি নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেন। তবে মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এবং এই হামলায় নিজে আহত হওয়ার পর থেকে তিনি এখন পর্যন্ত জনসম্মুখে আসেননি।
চলতি মাসের শুরুতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, গত ৮ এপ্রিল দুই দেশের মধ্যে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়ার পর থেকে তেহরানের সঙ্গে চলমান আলোচনা প্রক্রিয়ায় মোজতবা খামেনি নেপথ্য থেকে ক্রমান্বয়ে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন।