যশোর, বাংলাদেশ || সোমবার, ১১ মে ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

হেরে বিরোধ সৃষ্টি করছেন সাবিরা, সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার

, যশোর

প্রকাশ : রবিবার, ১৫ মার্চ,২০২৬, ০৯:০১ পিএম
আপডেট : সোমবার, ১৬ মার্চ,২০২৬, ০১:১০ এ এম
হেরে বিরোধ সৃষ্টি করছেন সাবিরা, সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ

নির্বাচনে পরাজিত হয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাবিরা সুলতানার বিরুদ্ধে।

তিনি অব্যাহতভাবে দলীয় নেতাকর্মীদের নামে বিষোদ্গার করে চলেছেন। এমনকী সমাবেশ কিংবা গণমাধ্যমেও বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা তথ্য দিয়ে অপপ্রচার শুরু করেছেন।

রোববার (১৫ মার্চ) বিকেলে ঝিকরগাছা প্রেসক্লাব কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ উত্থাপন করেন ঝিকরগাছা ও চৌগাছা উপজেলা বিএনপির একাংশের নেতারা।

লিখিত বক্তব্যে ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমরান সামাদ নিপুণ বলেন, নিজের সীমাহীন ব্যর্থতা ঢাকতেই সাবিরা সুলতানা দলের ত্যাগী ও প্রবীণ নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছেন।

সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, নির্বাচনে পরাজয়ের মূল কারণ প্রার্থীর অদক্ষতা, অহংকার এবং তৃণমূল থেকে বিচ্ছিন্নতা। সাবিরা সুলতানার আপন চাচাশ্বশুর আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির স্থানীয় নেতা এবং অপর এক আত্মীয় জামায়াতের প্রভাবশালী নেতা হওয়া সত্ত্বেও হাই কমান্ড তাকে মনোনয়ন দেয়। কিন্তু তিনি দলের ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন না করে বিতর্কিত আত্মীয়-স্বজনদের গুরুত্ব দিয়েছেন। নির্বাচনের সময় দলীয় ব্যানার ব্যবহার করেননি। তার স্বামীর নামে ‘নাজমুল ইসলাম ফাউন্ডেশন’ এর ব্যানারে প্রচার চালিয়ে তিনি মূলধারার নেতাকর্মীদের পাশ কাটিয়ে চলেন। নির্বাচনের মাত্র ১০ দিন আগে উপজেলা যুবদলের কমিটি বিলুপ্ত করে পকেট কমিটি গঠন এবং ছাত্রদল ও যুবদলের ত্যাগী নেতাদের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ দিয়ে তাদের কারণ দর্শানোর নোটিস প্রদান করে দলে বিভক্তি সৃষ্টি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমরান সামাদ নিপুণ বলেন, এই আসনে প্রবাসীদের ই-পোস্টাল ভোটারদের মধ্যে জামায়াতের প্রার্থী প্রায় ১৩ হাজার ভোট পেয়েছেন, সেখানে সাবিরা সুলতানার প্রাপ্ত ভোট ১৬শ'র কিছু বেশি। এটি প্রার্থীর প্রতি সাধারণ ভোটারদের অনাস্থারই বহির্প্রকাশ। সাবেরা সুলতানা উপজেলা চেয়ারম্যান থাকাকালে সাধারণ মানুষের কোনো উপকারে আসেননি। বিগত ১৭ বছরের আওয়ামী শাসনামলে হামলা-মামলার শিকার হওয়া নেতাকর্মীদের পাশে না দাঁড়িয়ে উল্টো এখন তাদের ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে অপবাদ দেওয়া হচ্ছে। যে কারণে তিনি নিজ কেন্দ্র কীর্তিপুরসহ বেশিরভাগ কেন্দ্রে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়েছেন।

নেতারা বলেন, সাবিরা সুলতানার এই ধরনের মিথ্যাচার দলের ঐক্য বিনষ্ট করার একটি অপচেষ্টা মাত্র। দলের হাই কমান্ডের কাছে তার বিভ্রান্তিকর এ অপতৎপরতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মোর্ত্তজা এলাহী টিপু, চৌগাছা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি জহুরুল হকসহ দুই উপজেলা বিএনপি, পৌর ও ইউনিয়ন বিএনপি এবং অঙ্গ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাবিরা সুলতানা বলেন, এরা একটি সংঘবদ্ধ রাজনৈতিক চক্র । যারা সবসময়ই বিশেষ বিশেষ সময়ে দলের বিপক্ষে কাজ করেন। ৫ আগস্টের আগে আওয়ামী লীগের সাথে মিশে কাজ করেছেন। পরে এলাকায় চাঁদাবাজি দখলবাজি মাদকসহ নানা অপকর্মে জড়িতদের পৃষ্টপোষকতা করে আসছেন। দফায় দফায় জামায়াতের সাথে বৈঠকসহ আর্থিক লেনদেন করেছেন। দল আমাকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে যাচাই বাছাই করেই মনোনয়ন দেয়। আমি নির্বাচিত হলে তাদের অনৈতিক কাজে বিঘ্ন ঘটার সম্ভাবনা দেখেই আমার বিরোধিতা করেছেন।

সাবিরা সুলতানা বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি। সদ্য অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে খুলনা বিভাগে বিএনপির নারীনেত্রী হিসেবে তিনিই শুধুমাত্র দলীয় মনোনয়ন পান। নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদের কাছে পরাজিত হন। নির্বাচনের পরে সাবিরা সুলতানা সমাবেশ কিংবা গণমাধ্যমে তার পরাজিত হওয়ার পেছনে দুই উপজেলার দলের শীর্ষ নেতাদের ‘বিশ্বাসঘাতকতাকে’ দায়ী করে আসছেন।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)