যশোর, বাংলাদেশ || রবিবার, ১০ মে ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

বটবৃক্ষে রেস্টুরেন্ট: উৎসাহ-উদ্বেগ দুটোই আছে

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

প্রকাশ : রবিবার, ১০ মে,২০২৬, ১১:০০ পিএম
বটবৃক্ষে রেস্টুরেন্ট: উৎসাহ-উদ্বেগ দুটোই আছে

শান্ত সবুজে ঘেরা পরিবেশ, পাশে নিঃশব্দে বয়ে চলা পানির ধারা আর মাথার ওপরে খোলা আকাশ। প্রকৃতির এমন অপূর্ব মঞ্চেই গড়ে উঠেছে এক ব্যতিক্রমি রেস্টুরেন্ট। তবে মাটিতে নয়, গাছের ডালে বসেই উপভোগ করা যায় চা, কফি ও পছন্দের নানা খাবার।

ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলার চারাতলা বাজারসংলগ্ন ঘোড়দহ গ্রামে বিশাল এক বটগাছের ওপর কাঠের মাচা তৈরি করে গড়ে তোলা হয়েছে এই ব্যতিক্রমী ‘বৃক্ষ বিলাস ক্যাফে অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট’। বাস্তবতার মাঝে শহরের কোলাহল ভুলে প্রকৃতির সান্নিধ্যে ডুবে যাওয়ার বাসনায় অনেকেই সেখানে যাচ্ছেন। তবে, প্রকৃতিবিদরা বলছেন, এটা পরিবেশের প্রতি নিষ্ঠুরতা। এটাতে উৎফুল্ল না হয়ে প্রতিহত করা দরকার।

এই উদ্যোগটি নিয়েছেন গ্রামের দুই কলেজপড়ুয়া তরুণ কনক হোসেন ও আবির হাসান। তাদের এই চিন্তা ইতিমধ্যেই কৌতূহলী দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ভিড় করছেন নতুন অভিজ্ঞতার স্বাদ নিতে।

সেখানে ঘুরে দেখা যায়, গাছের গায়ে লাগানো সিঁড়ি বেয়ে রেস্টুরেন্টে হয়। কাঠ দিয়ে তৈরি মাচায় বসে চারপাশের সবুজ প্রকৃতি উপভোগ করা যায়। কোকিলের ডাক, পাখিদের কিচিরমিচির আর মৃদু বাতাসে পুরো পরিবেশ হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত ও মনোমুগ্ধকর। পরিবার-পরিজনের সঙ্গে এমন পরিবেশে এক কাপ চা বা প্রিয় খাবার যেন বাড়িয়ে দেয় আনন্দের মাত্রা।

ঢাকা থেকে ঘুরতে আসা দর্শনার্থী রাকিব হাসান বলেন, এমন অভিজ্ঞতা আগে কখনো পাইনি। গাছের ওপর বসে চা খাওয়া সত্যিই অসাধারণ। প্রকৃতির এত কাছাকাছি এসে মনে হচ্ছে সব ক্লান্তি দূর হয়ে গেছে।

শহরের চাকলাপাড়ার বাসিন্দা শিউলি খাতুন বলেন, আমাদের এলাকায় এমন কিছু হবে ভাবতেই পারিনি। এখন অনেক মানুষ আসছে, এতে এলাকাও পরিচিত হচ্ছে।’
‘ব্যতিক্রমী’ এ রেস্টুরেন্টের উদ্যোক্তা কনক হোসেন বলেন, ‘আমরা চেয়েছিলাম মানুষকে একটু ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা দিতে, যেন তারা প্রকৃতির কাছাকাছি এসে কিছু সময় শান্তিতে কাটাতে পারে।’

অন্য উদ্যোক্তা আবির হাসান বলেন, ‘শুরুটা ছোট হলেও ভবিষ্যতে আমরা এখানে একটি মিনি পার্ক গড়ে তুলতে চাই, যাতে দর্শনার্থীরা আরও বেশি প্রশান্তি বোধ করে।’
ঝিনাইদহ শহর থেকে প্রায় ১৩ কিলোমিটার দূরে, হরিণাকুন্ডু সড়কের চারাতলা বাজারের পাশেই অবস্থিত এই রেস্টুরেন্ট। ঝিনাইদহ-চুয়াডাঙ্গা সড়কের হলিধানি বাজার হয়ে কাতলামারী-চারাতলা সড়ক দিয়েও সহজেই পৌঁছানো যায় এই ব্যতিক্রমী রেস্টুরেন্টে।

যশোর সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের সাবেক প্রধান প্রফেসর জিল্লুল বারী সুবর্ণভূমিকে বলেন, ‘গাছ একটি জীবন্ত সত্তা। এর গায়ে পেরেক মেরে কষ্ট দেওয়ার কোনো অধিকার কারও নেই। যেমন রাস্তার কুকুরকেও আপনি মারতে পারবেন না।’

তিনি বলেন, ‘এই পৃথিবীর অধিবাসী শুধু আমরা একা নই। অন্যান্য জীবের মধ্যে গাছ অন্যতম অধিবাসী। গাছ আছে বলেই সভ্যতা টিকে রয়েছে।’

প্রফেসর জিল্লুল বারী বলেন, ‘পরিবেশের জন্য পঁচিশ শতাংশ বনায়ন জরুরি। কিন্তু, আমাদের দেশে তা নেই। যতটুকু আছে সেগুলোও যদি আমরা ক্ষতি করি তাহলে পরিবেশের বিপর্যয় ঘটবে। এই অন্যায় থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।’

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)