মোহাম্মদ মিশুক হাসান
, (শৈলকূপা) ঝিনাইদহ
ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলায় এক কলেজছাত্র পড়ালেখার পাশাপাশি ব্যতিক্রমী ২৩ জাতের আঙুর চাষ করে এলাকায় সাড়া ফেলেছেন। শখ থেকে শুরু করা তার এই ছোট উদ্যোগটি এখন পরিণত হয়েছে সম্ভাবনাময় বাণিজ্যে। প্রতিদিনই তার বাগান দেখতে বিভিন্ন এলাকা থেকে ভিড় করছে মানুষ।
চাষি শাহারিয়া পারভেজ উপজেলার যৌগীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং ঝিনাইদহ কেশবচন্দ্র কলেজের বাংলা বিভাগের অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্র।
জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে ইউটিউবে একটি ভিডিও দেখে আঙুর চাষে আগ্রহী হন পারভেজ। এরপর নিজ উদ্যোগে প্রথমে বাড়িতে ছোট পরিসরে শুরু করেন। প্রাথমিকভাবে সফলতা পাওয়ার পর তিনি ২০ শতক জমিতে আঙুর চাষ শুরু করেন। শুরুতে অনেকেই বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ ও হাসাহাসি করলেও বর্তমানে তার বাগানই হয়ে উঠেছে স্থানীয়দের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু।
বর্তমানে তার বাগানে রয়েছে ২৩ জাতের আঙুর। যার মধ্যে অন্যতম বাইকুনুন, ব্ল্যাক ম্যাজিক, জাম্বু ও শরৎ উল্লেখযোগ্য। এদের মধ্যে কিছু জাত বাংলাদেশে নতুন। উন্নত মানের চারা সংগ্রহ করতে তিনি ভারত থেকেও চারা নিয়ে আসেন। নিয়মিত পরিচর্যা, সঠিক ব্যবস্থাপনা এবং আধুনিক কৃষি পদ্ধতির প্রয়োগে তার বাগানটি এখন দৃষ্টিনন্দন ও লাভজনক উদ্যোগে পরিণত হয়েছে।
প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ তার বাগান দেখতে আসছেন। অনেকে আঙুর চাষ সম্পর্কে জানতে আগ্রহ প্রকাশ করছেন এবং তার কাছ থেকে পরামর্শ নিচ্ছেন। পাশাপাশি বাগান থেকেই আঙুরের চারা বিক্রি করে তিনি অতিরিক্ত আয় করছেন।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল আল সাকিব বলেন, সঠিক তথ্য ও পরিচর্যার মাধ্যমে বাংলাদেশেও যে আঙুর চাষ সম্ভব, তার বাস্তব উদাহরণ শাহারিয়া পারভেজ। আমরা তাকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছি এবং ভবিষ্যতেও কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা দিয়ে পাশে থাকবো।
এদিকে, তার বাগানে উৎপাদিত আঙুর স্থানীয় বাজারে প্রতি কেজি ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ভালো স্বাদ ও মানের কারণে ক্রেতাদের কাছেও এর চাহিদা বেশ, ফলে উদ্যোগটি ইতোমধ্যে লাভজনক হয়ে উঠেছে।
শাহারিয়া পারভেজ বলেন, শুরুতে অনেকেই নিরুৎসাহিত করেছিলেন। কিন্তু আমি বিশ্বাস করতাম, পরিশ্রম করলে সফলতা আসবেই। যারা একসময় হাসাহাসি করতো, তারা এখন আমার বাগান দেখতে আসে এবং পরামর্শ নেয়এটাই আমার সবচেয়ে বড় অর্জন।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের আবহাওয়া আঙুর চাষের জন্য অনেকটাই উপযোগী। সঠিকভাবে পরিচর্যা করলে প্রায় সারা বছরই ফল পাওয়া সম্ভব। আমার উৎপাদিত আঙুর বাগান থেকেই বিক্রি হয়ে যায়, বাইরে যেতে হয় না।
স্থানীয় এক যুবক বলেন, তিনি চাকরির পিছনে না ছুটে এই উদ্যোগ আমাদের মতো তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি আঙুর চাষ করে আজ সফল যা আমাদের গ্রামের জন্য গর্বের বিষয় ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক দিকনির্দেশনা ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে দেশের কৃষি খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হতে পারে। পরিশ্রম, সাহস এবং নতুন কিছু করার মানসিকতা একজন তরুণকে যেভাবে সফলতার পথে এগিয়ে নিতে পারে, শাহারিয়া পারভেজ তার উজ্জ্বল উদাহরণ।