সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
কলারোয়ায় একটি ফিলিং স্টেশন থেকে নেওয়া ভেজাল ডিজেলে ট্রাকের ইঞ্জিন বিকল হয়ে চার লক্ষাধিক টাকার কাঁচামাল নষ্ট হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) দুপুরে উপজেলার কাজীরহাট এলাকার মেসার্স ডেলমা ফিলিং স্টেশন থেকে ডিজেল নেওয়ার পর এই বিপত্তি ঘটে।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ও কুশোডাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা মো. বজলুর রহমান জানান, শুক্রবার দুপুরে তিনি উপজেলার সোনাবাড়িয়া বাজার থেকে চার লাখ দশ হাজার ১৯৪ টাকার পটল কিনে একটি ট্রাকে (যশোর-ড-১১-১৩৫৫) করে রাজশাহীর উদ্দেশে পাঠান। পথে দুপুর দুইটার দিকে কাজীরহাটে অবস্থিত মনিরুল ইসলামের মালিকানাধীন ডেলমা ফিলিং স্টেশন থেকে ১২ হাজার ৩০০ টাকার ডিজেল নেওয়া হয়।
তিনি অভিযোগ করছেন, ট্রাকটি যশোর পৌঁছানোর পর হঠাৎ ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায়। স্থানীয় মিস্ত্রিরা দীর্ঘ ৪-৫ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে জানান, জ্বালানি তেলে প্রচুর পরিমাণে পানি মেশানো। সেকারণে ইঞ্জিনের ভেতরে পানি ঢুকে সেটি পুরোপুরি বিকল হয়ে গেছে। গাড়িটি দীর্ঘ সময় রাস্তায় পড়ে থাকায় গরমে ট্রাকে থাকা চার লাখ টাকার বেশি দামের পটল পচে নষ্ট হয়ে যায়। এতে ওই ব্যবসায়ীর যাতায়াত ও গাড়ি মেরামত বাবদ আরও প্রায় ৫০ হাজার টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
ট্রাকচালক মো. সালাম বলেন, পাম্প থেকে তেল নেওয়ার কিছু সময় পরেই গাড়ির শব্দ বদলে যায় এবং যশোরে গিয়ে ইঞ্জিন জ্যাম হয়ে যায়। মিস্ত্রিরা তেলের ট্যাংকি পরীক্ষা করে পানি মিশ্রিত ডিজেল পেয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই দিন ডেলমা ফিলিং স্টেশন থেকে জ্বালানি নেওয়া আরও বেশ কিছু যানবাহনে একই ধরনের যান্ত্রিক গোলযোগ দেখা দিয়েছে। ঘটনার পর পাম্প কর্তৃপক্ষ তেল থেকে পানি নিষ্কাশন করে ফের তেল দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও ব্যবসায়ীর বিশাল অঙ্কের এই ক্ষতির দায় নিতে অস্বীকৃতি জানায়। পরবর্তীতে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে থানায় অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী।
পাম্পের ম্যানেজার মো. আব্দুল হাকিম স্বীকার করেছেন, ডিজেলে পানি মেশানো ছিল। এখনকার সময় এই ধরনের ঘটনা অহরহ ঘটে থাকে। ১০, ১৫ বা ২০ হাজার- যাই লাগুক ওরা ফেরত দেবে বা তেল পরিবর্তন করে দেবে।
এদিকে, ভিডিওতে পাম্প বন্ধ করে গোপনে তেলের ট্যাংকি থেকে পানি অপসারণ করতে দেখা গেছে।
এ বিষয়ে তাদের ডিলার পদ্মা অয়েল কোম্পানির ম্যানেজারের সাথেও যোগাযোগ করেছিলেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. বজলুর রহমান। তিনি জানান, পদ্মা অয়েল কোম্পানির ম্যানেজার বলেছেন ওনারা তেল বুঝ করে দিয়েছেন।
প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেন পদ্মা অয়েল কোম্পানির ম্যানেজার।
কলারোয়া থানার বর্তমান ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীন বলেন, ‘ভেজাল তেলের কারণে মালামাল নষ্ট ও আর্থিক ক্ষতির লিখিত অভিযোগ এখনো পাইনি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’