সুবর্ণভূমি ডেস্ক
সুবর্ণভূমি—
ছবি:
কক্সবাজারের মহেশখালীতে ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ বাড়তে শুরু করেছে। বর্তমানে সেখানকার দুটি টার্মিনালই চালু রয়েছে।
শুক্রবার বেলা ১১টায় দুই টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ ৬০ মিলিয়ন ঘনফুট বেড়ে ৬৭০ মিলিয়ন ঘনফুটে পৌঁছেছে। ধীরে ধীরে সরবরাহ আরও বাড়ছে বলে জানিয়েছেন পেট্রোবাংলার এক কর্মকর্তা।
ওই কর্মকর্তা জানান, বৈরী আবহাওয়ার কারণে বৃহস্পতিবার বিকেলে সামিট পাওয়ার লিমিটেডের টার্মিনালটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। শুক্রবার সকালে সেটি আবার চালু হয়েছে। এতে গ্যাস সরবরাহ বাড়তে শুরু করেছে।
তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে নতুন কার্গো থেকে এলএনজি সরবরাহ শুরু করা সম্ভব না হওয়ায় সামগ্রিক সরবরাহ কমে যায়। এলএনজিবাহী নতুন একটি কার্গো টার্মিনালে ভিড়েছে। সাগর কিছুটা শান্ত হলে যেকোনো সময় ওই কার্গো থেকে সরবরাহ শুরু করা যাবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
পেট্রোবাংলার পক্ষে এলএনজি আমদানির দায়িত্বপ্রাপ্ত রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানির এক কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে এলএনজিবাহী কার্গোর কোনো সংকট নেই। দুটি কার্গো সরবরাহের অপেক্ষায় রয়েছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে দুই টার্মিনাল থেকে সর্বোচ্চ সক্ষমতায় গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হবে। চলতি মাসে আটটি এলএনজিবাহী জাহাজ এসেছে। আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর আরও একটি জাহাজ আসার কথা রয়েছে।
এদিকে বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপের কারণে আবহাওয়া অধিদপ্তর দেশের তিন সমুদ্রবন্দর—চট্টগ্রাম, মোংলা ও পায়রা এবং কক্সবাজার সৈকতে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে। এর প্রভাবে সাগর উত্তাল রয়েছে এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিপাত হচ্ছে।
টার্মিনাল-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ঢেউ ও বাতাসের গতি বেশি থাকায় নতুন কার্গো থেকে এলএনজি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে। এর মধ্যেও জাহাজ ভেড়ানো হয়েছে এবং এলএনজি সরবরাহের প্রস্তুতি চলছে। তাদের আশা, শুক্রবার সন্ধ্যার মধ্যে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে।
প্রায় দুই মাস পর গত ১৬ আগস্ট থেকে মহেশখালীর দুটি ভাসমান টার্মিনাল পূর্ণ সক্ষমতায় এলএনজি সরবরাহ করছিল। তবে সমুদ্রে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে বৃহস্পতিবার আবারও সরবরাহ কমে যায়। পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় গ্রাহকদের কিছুটা ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
পেট্রোবাংলার এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে সমুদ্রে ভাসমান টার্মিনালে এলএনজি স্থানান্তর ব্যাহত হয়েছে। ফলে এলএনজি সরবরাহ কমে যাওয়ায় সামগ্রিক গ্যাস সরবরাহও কিছুটা কমেছে। বঙ্গোপসাগরের আবহাওয়ার উন্নতি হলে দ্রুততম সময়ে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। অনিবার্য কারণে সরবরাহ কমে যাওয়ায় গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে পেট্রোবাংলা।
পেট্রোবাংলা সূত্র জানায়, দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এর বিপরীতে দীর্ঘদিন ধরে ২ হাজার ৬৫০ থেকে ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হচ্ছিল। বুধবারও সরবরাহ ছিল ২ হাজার ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট। তবে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তা কমে ২ হাজার ২০০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে আসে।
দেশে সরবরাহ করা গ্যাসের ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ আসে আমদানি করা এলএনজি থেকে। এলএনজিকে গ্যাসে রূপান্তর করে পাইপলাইনে সরবরাহের জন্য কক্সবাজারের মহেশখালী উপকূলে দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। এর একটি মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেটের এবং অন্যটি দেশীয় কোম্পানি সামিটের। দুটি টার্মিনাল মিলে সর্বোচ্চ ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করতে পারে।
এলএনজি শেষ হয়ে যাওয়ায় বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে একটি টার্মিনাল থেকে সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এলএনজি নিয়ে নতুন জাহাজ এলেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে তা টার্মিনালে স্থানান্তর করা সম্ভব হয়নি। এরপর সরবরাহ কমে ৫৯০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে আসে। এর আগে কয়েক দিন ধরে প্রায় এক হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল।
এর আগে গত ২১ জুলাই মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেটের ভাসমান টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর সেটি থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এতে এলএনজি থেকে গ্যাস সরবরাহ অর্ধেকে নেমে যাওয়ায় দেশে তীব্র গ্যাস-সংকট দেখা দেয়। গত ১৫ আগস্ট টার্মিনালটি পূর্ণ সক্ষমতায় গ্যাস সরবরাহের জন্য প্রস্তুত হলেও আমদানিবাহী জাহাজ না আসায় সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব হয়নি। চলতি মাসে এলএনজি আমদানি স্বাভাবিক হওয়ার পর সরবরাহও বাড়ানো হয়।