যশোর, বাংলাদেশ || শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

সম্পাদকীয়

ইলিশ আমদানি বন্ধের সিদ্ধান্ত সঠিক, অনুমতি কেন দেওয়া হয়েছিল জানান

প্রকাশ : শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর,২০২৬, ০৪:১৬ পিএম
আপডেট : শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর,২০২৬, ০৪:১৬ পিএম
ইলিশ আমদানি বন্ধের সিদ্ধান্ত সঠিক, অনুমতি কেন দেওয়া হয়েছিল জানান

ইলিশ শুধু একটি মাছ নয়; বাংলাদেশের অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও মানুষের আবেগের সঙ্গে এর গভীর সম্পর্ক রয়েছে। ফলে ইলিশের বাজারে যেকোনো প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের প্রভাব দ্রুতই ব্যবসায়ী থেকে ভোক্তা—সব পর্যায়ে পড়ে। ভারত থেকে ইলিশ আমদানির জন্য মৎস্য অধিদপ্তরের দেওয়া ১০৩টি অনাপত্তি সনদ (এনওসি) হঠাৎ বাতিলের ঘটনায় সেই বাস্তবতাই আবার সামনে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এনওসি পাওয়ার পর কয়েকজন আমদানিকারক ভারতীয় অংশে ইলিশ কেনার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন, কেউ কেউ মাছ কেনার প্রক্রিয়াও সম্পন্ন করেছিলেন। এরপর অনুমোদন বাতিল হওয়ায় তাদের বিনিয়োগ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। ব্যবসায়ীদের বক্তব্য অনুযায়ী, মাছ কেনার পাশাপাশি পরিবহন, শ্রমিক, কাস্টমস ক্লিয়ারিংসহ নানা পর্যায়ে আগাম অর্থ ব্যয় করতে হয়। অতএব, কোনো অনুমোদন দেওয়ার পর তা আকস্মিকভাবে বাতিল হলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের আর্থিক দায় ও ক্ষতির বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

প্রশাসনের সিদ্ধান্তের পেছনে নিশ্চয়ই কোনো কারণ রয়েছে। কিন্তু জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট এমন সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে কারণটি স্পষ্টভাবে জানানো জরুরি। ১০৩টি এনওসি কেন বাতিল করা হলো, সিদ্ধান্তটি সাময়িক নাকি দীর্ঘমেয়াদি, আগে অনুমোদিত চালানের ক্ষেত্রে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এসব প্রশ্নের উত্তর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পরিষ্কারভাবে আসা দরকার। এতে ব্যবসায়ীদের অনিশ্চয়তা যেমন কমবে, তেমনি সাধারণ মানুষের মধ্যেও বিভ্রান্তি থাকবে না।

অন্যদিকে ইলিশের আমদানি মূল্য ও খুচরা বাজারদরের পার্থক্য নিয়েও সুবর্ণভূমিতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠেছে। প্রতি কেজি ইলিশের আমদানি মূল্য ২৫২ টাকা দেখানো হলেও শুল্ক, সরকারি ব্যয় ও পরিবহনসহ অন্যান্য খরচ মিলিয়ে তা ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকায় পৌঁছানোর কথা বলা হয়েছে। অথচ খুচরা বাজারে এক হাজার ৪০০ থেকে এক হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। এই ব্যবধানের প্রকৃত কারণ কী, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

এখানে ভোক্তার অধিকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমদানি করা ইলিশ যদি দেশি মাছ হিসেবে বিক্রি করা হয়, কিংবা প্রকৃত ক্রয়মূল্য ও বাজারদরের মধ্যে অস্বাভাবিক পার্থক্য থাকে, তাহলে ভোক্তা প্রতারিত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েন। তাই বাজারে মাছের উৎস, আমদানির তথ্য এবং বিক্রয়মূল্য যথাসম্ভব স্বচ্ছ রাখা দরকার। এ ক্ষেত্রে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের নিয়মিত বাজার তদারকি আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে আমদানি বন্ধের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে শুধু ব্যবসায়ীদের ক্ষতি বা ভোক্তার স্বার্থ—একটি দিক দেখলে চলবে না। এর সঙ্গে পরিবহন, কাস্টমস ক্লিয়ারিং, শ্রমিক এবং সীমান্তকেন্দ্রিক অন্যান্য ব্যবসাও যুক্ত। একই সঙ্গে বাজারে ইলিশের সরবরাহ কমলে তার প্রভাব দামের ওপর পড়তে পারে। ফলে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় সামগ্রিক বাজারব্যবস্থার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনা করা প্রয়োজন।

সবশেষে, ইলিশ আমদানি করা হবে কি না—এটি নীতিগত সিদ্ধান্ত। কিন্তু যে সিদ্ধান্তই নেওয়া হোক, তার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, পূর্বঘোষিত নীতিমালা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের স্বার্থের প্রতি যথাযথ নজর থাকা দরকার। অনুমোদন দেওয়ার আগে যাচাই-বাছাই এবং অনুমোদন বাতিলের প্রয়োজন হলে তার সুস্পষ্ট কারণ ও করণীয় জানানোই প্রশাসনিক আস্থার ভিত্তি।

ইলিশের বাজারে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে হলে শুধু আমদানি বন্ধ বা চালু করাই যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন সঠিক তথ্য, কার্যকর তদারকি, ন্যায্য বাজারব্যবস্থা এবং ভোক্তার অধিকার নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে বৈধ অনুমোদনের ভিত্তিতে যারা ব্যবসায়িক বিনিয়োগ করেছেন, তাদের প্রতিও দায়িত্বশীল প্রশাসনিক আচরণ নিশ্চিত করতে হবে। সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতাই পারে এই অনিশ্চয়তা কমাতে এবং ইলিশের বাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনতে।

আরেকটি দিকও নীতিনির্ধারকদের গুরুত্বসহকারে বিবেচনায় নিতে হবে—ইলিশ মূলত বাংলাদেশের মাছ হিসেবে পরিচিত। এতকাল বাংলাদেশ থেকেই ইলিশ ভারতসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হয়ে আসছে। এবার কেন উল্টো ভারত থেকে ইলিশ আমদানি করতে হবে? নিশ্চয় এমন কিছু ঘটেছে, যার জন্য বঙ্গোপসাগরের বাংলাদেশ অংশে এবং এর অবশ্যম্ভাবী ফল হিসেবে দেশের নদীতে ইলিশ ঢুকছে না। কী কারণে আমাদের এই অংশে ইলিশের আকাল চলছে, তা অবশ্যই গবেষণা করে বের করতে হবে। একইসাথে এর সম্ভাব্য প্রতিকারও আমরা দেখতে চাই।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)