লোহাগড়া (নড়াইল) প্রতিনিধি
বিশ্ববরেণ্য চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের নামে প্রদত্ত ‘সুলতান সম্মাননা পদক’-২০২৬ পাচ্ছেন চিত্রশিল্পী মো. আব্দুস সাত্তার।
এস এম সুলতানের ১০৩তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে সোমবার সংস্কৃতিবিষয়কমন্ত্রী নিতাই রায়চৌধুরী এ পদক শিল্পীর হাতে তুলে দেবেন বলে জানিয়েছেন এস এম সুলতান সংগ্রহশালার কিউরেটর তন্দ্রা মুখার্জী।
তিনি বলেন, আগামীকাল সোমবার সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে চারুকলা বিভাগের ব্যবস্থাপনায় এবং শিল্পী এস এম সুলতান সংগ্রহশালা, জেলা শিল্পকলা একাডেমি, নড়াইল জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এস এম সুলতানের জন্মবার্ষিকী উদযাপন করা হবে।
এ উপলক্ষে দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে এস এম সুলতান শিশুস্বর্গে কোরআনখানি, শিল্পীর সমাধিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি, আর্টক্যাম্প, শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, আলোচনাসভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবদুল ছালামের সভাপতিত্বে এসব কর্মসূচিতে বিশেষ অতিথি থাকবেন নড়াইল-১ আসনের সংসদ সদস্য বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম এবং নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য আতাউর রহমান বাচ্চু।
১৯২৩ সালের ১০ আগস্ট তৎকালীন মহকুমা শহর নড়াইলের মাছিমদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন শেখ মোহাম্মদ সুলতান। তার ডাক নাম ‘লাল মিয়া’।
৭০ বছরের বোহেমিয়ান জীবনে তিনি তুলির আঁচড়ে দেশ, মাটি, মাটির গন্ধ আর ঘামে ভেজা মেহনতি মানুষের সাথে নিজেকে একাকার করে বিখ্যাত সব ছবি সৃষ্টি করেছেন।
তার উল্লেখযোগ্য শিল্পকর্মের আছে মধ্যে আছে- পাট কাটা, ধান কাটা, ধান ঝাড়া, ধান মাড়াই, ধান ভানা, চর দখল, জমি কর্ষণে যাত্রা, মাছ ধরা, নদীর ঘাটে, গুন টানা, ফসল কাটার ক্ষণে, শরতের গ্রামীণ জীবন, শাপলা তোলা প্রভৃতি।
এই চিত্রশিল্পীকে ১৯৮২ সালে একুশে পদক, ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ সরকারের রেসিডেন্স আর্টিস্ট হিসেবে স্বীকৃতি, ১৯৮৬ সালে চারুশিল্পী সংসদ সম্মাননা এবং ১৯৯৩ সালে স্বাধীনতা পদক প্রদান করা হয়।
১৯৯৪ সালের ১০ অক্টোবর যশোর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে শিল্পী সুলতান মৃত্যুবরণ করেন।
কিউরেটর তন্দ্রা মুখার্জী জানান, চিত্রশিল্পী সুলতানের স্মৃতি ও কর্মের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে গুণী শিল্পীদের প্রতিবছর ‘সুলতান সম্মাননা পদক’ প্রদান করা হয়। এবার এই পদক পাচ্ছেন চিত্রশিল্পী ড. আব্দুস সাত্তার।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ড্রইং অ্যান্ড পেইন্টিং বিভাগে আব্দুস সাত্তার দীর্ঘকাল শিক্ষকতা করেন। একুশে পদক-২০২৬ পাওয়া এই শিল্পীর প্রাচ্য শিল্পরীতি, ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় ও প্রাচ্য ম্যুরাল এবং আধুনিকতার সংমিশ্রণে শিল্পকর্ম সৃষ্টিতে বিশেষ খ্যাতি রয়েছে। তার ২০টির অধিক প্রকাশনা রয়েছে, যেগুলো কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে রেফারেন্স বুক হিসাবে তালিকাভুক্ত।