সুবর্ণভূমি ডেস্ক
গুগলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) অ্যাসিস্ট্যান্ট জেমিনি মাসে ১০০ কোটির বেশি ব্যবহারকারীর মাইলফলক অর্জন করেছে। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটির এআই বিভাগে বড় ধরনের পুনর্গঠনের এক সপ্তাহ পর মঙ্গলবার এ তথ্য জানিয়েছেন গুগলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সুন্দর পিচাই। খবর এএফপির।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে পিচাই লিখেছেন, ‘গুগলের ১৪তম পণ্য হিসেবে এটি ইতিহাসে সবচেয়ে দ্রুত বেড়ে ওঠা আমাদের সেবা বা পণ্য’ যা ১০০ কোটি ব্যবহারকারীর মাইলফলক অর্জন করেছে।
গুগলের পুরো ইকোসিস্টেমে কতজন জেমিনি অ্যাপ ব্যবহার করছেন, সেই হিসাবের ভিত্তিতে এই সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ মাইলফলক এআই বিভাগে বড় ধরনের পরিবর্তনের মধ্যেও গুগলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
রসায়নে নোবেল পুরস্কার পাওয়া ডেমিস হাসাবিস সম্প্রতি গুগল ডিপমাইন্ডের দৈনন্দিন ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। গুগল ডিপমাইন্ডের এই গবেষণাগারেই জেমিনি মডেল তৈরি করা হয়। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটির বেশ কয়েকজন শীর্ষ গবেষকও চলে গেছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন জেফ ডিন, যিনি প্রায় তিন দশক ধরে প্রতিষ্ঠানটির প্রকৌশল কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
গুগলের নতুন প্রধান মডেল জেমিনি ৩.৫ প্রো জুনে উন্মোচনের কথা থাকলেও এখনো প্রকাশ করা হয়নি। এরই মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানগুলো আরও শক্তিশালী বেশ কয়েকটি মডেল বাজারে এনেছে। বিশেষ করে কম্পিউটার কোড তৈরি বা কোডিং এখন এআই খাতের সবচেয়ে বেশি আয় করা ক্ষেত্রগুলোর একটি হওয়ায় সেখানে প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হয়েছে।
প্রযুক্তিগত দিক থেকে কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও গুগলের বড় শক্তি হলো এর বিশাল ব্যবহারকারীভিত্তি। প্রতিষ্ঠানটি সার্চ, জিমেইল, গুগল ম্যাপস ও ইউটিউবসহ নিজেদের বিভিন্ন সেবায় জেমিনি এআই যুক্ত করছে।
এদিকে জুলাই মাসে ওপেনএআই জানিয়েছিল, চ্যাটজিপিটির নেতৃত্বে তাদের বিভিন্ন ইন্টারফেস মিলিয়ে ব্যবহারকারীর সংখ্যা এক বিলিয়নে পৌঁছেছে। তবে এই সংখ্যা মাসিক নাকি সাপ্তাহিক ব্যবহারকারীর, তা নির্দিষ্ট করে জানানো হয়নি।
সান ফ্রান্সিসকোভিত্তিক এআই প্রতিষ্ঠানটি ২০২২ সালের নভেম্বরে বিনামূল্যে চ্যাটজিপিটি চালুর মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জনপ্রিয়তায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনে। এর ফলে চার বছরেরও কম সময়ে শূন্য থেকে প্রতিষ্ঠানটি বিশাল ব্যবহারকারী গোষ্ঠী গড়ে তুলেছে।
ব্যবহারকারীর সংখ্যা-সংক্রান্ত প্রতিটি পরিসংখ্যানই ভবিষ্যতে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির (আইপিও) মাধ্যমে ওপেনএআই যে মূল্যায়ন অর্জন করতে চায়, তাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটি জুনে গোপনে আইপিওর আবেদন জমা দিয়েছে।